ইরানের ৩টি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

সময়: 11:05 am - April 23, 2026 |

মানব কথা: এশিয়ার কয়েকটি দেশের জলসীমা থেকে ইরানের অন্তত তিনটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শিপিং ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছ থেকে জব্দ করা ট্যাংকারগুলো তাদের গন্তব্য থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরসমূহে, অর্থাৎ সমুদ্রপথে তেহরানের বাণিজ্যের ওপর ওয়াশিংটন অবরোধ আরোপ করার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে তেহরান তিনটি জাহাজে গুলিবর্ষণ করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর প্রায় দুই মাস পর দুপক্ষের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের একটি কার্গো জাহাজ এবং একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে।

অন্যদিকে, ইরান জানিয়েছে, তারা গতকাল বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই ইরানের প্রথম জাহাজ জব্দের ঘটনা।

মার্কিন ও ভারতীয় শিপিং সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা তিন ইরানি ট্যাংকারের একটি ‘ডিপ সি’ নামের সুপারট্যাংকার। এটি মালয়েশিয়া উপকূল থেকে এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হয়েছিল। এ ছাড়া ‘সেভিন’ ও ‘ডোরেনা’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে। ডোরেনা ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারত উপকূলের কাছে ছিল।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বন্দর অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করায় ডোরেনা বর্তমানে একটি মার্কিন রণতরীর পাহারায় ভারত মহাসাগরে রয়েছে।

সেন্টকম আরও জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৯টি জাহাজকে তারা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। সমুদ্রপথে ইরানের সামরিক তৎপরতা এবং ভাসমান মাইন এড়াতে মার্কিন বাহিনী এখন উন্মুক্ত সাগরে ইরানি জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। সূত্র: রয়টার্স

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর