‘সোজা গুলি করার’ নির্দেশনা ছিল শেখ হাসিনার: চিফ প্রসিকিউটর

সময়: 12:44 pm - May 10, 2026 |

মানব কথা :– জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— এমন দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চিফ প্রসিকিউটর জানান, শেখ ফজলে নূর তাপস–এর সঙ্গে হওয়া এক কথোপকথনে শেখ হাসিনার ওই নির্দেশনার বিষয়টি উঠে আসে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আমার নির্দেশনা দেওয়া আছে, ওপেন নির্দেশনা দিয়ে দিছি। এখন লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সোজা গুলি করবে।”
তিনি বলেন, একজন সরকারপ্রধান হিসেবে এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ। এর ফলে সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় এবং বহু মানুষ নিহত হন।
আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, “একজন সরকারপ্রধান, যিনি দেশের মানুষের অভিভাবক ছিলেন, ছাত্র-জনতার মাতৃতুল্য নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তার কাছ থেকে এমন নির্দেশ কেউ কল্পনাও করেনি। আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রীয় কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের এ ধরনের নির্দেশনার ফলেই সারা দেশে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এক-এগারোর সময়কার প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী–কে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়েও কথা বলেন। তাকে ওই সময়ের ডি ফ্যাক্টো সরকারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সে সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যে তার ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে সেফ হোমে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
এছাড়া জুলাই-আগস্টের ঘটনায় থানা পুলিশ ও ট্রাইব্যুনালের তদন্তে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়াতে, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারাধীন মামলাগুলোতে পুলিশকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
গুম সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সেনাসদরে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কার্যক্রমের অংশ এবং ‘তদন্তের প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ কাজ’।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর