আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা
মানব কথা : বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের পরও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও উপস্থিত ছিলেন।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গণশুনানি শেষে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ নির্ধারণ করলেও সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয়। এর ফলে লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য কার্যকর হচ্ছে না।তিনি জানান, দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির আওতায় পড়েন। ফলে মূল্য সমন্বয়ের পরও অধিকাংশ পরিবারকে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। উপদেষ্টা আরও বলেন, বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হলেও সরকারের ভর্তুকির বোঝা কমছে না। বরং আগামী বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।
ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত
জ্বালানি তেলের মূল্য প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। তার ভাষ্য, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৮২ শতাংশই ডিজেল, যা পণ্য পরিবহন, গণপরিবহন ও কৃষি সেচে ব্যবহৃত হয়। তাই নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ১১৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী জুন মাসে পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হলেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্রিফিংয়ে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।









