চেয়ার বাঁচাতে রাজনৈতিক দৌড়ঝাঁপে ভিসি-প্রো-ভিসিরা
মানব কথা: সরকার পরিবর্তনের পর দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য (ভিসি), উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ১৩টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি ও কয়েকটি ট্রেজারার পদেও নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া আরও কয়েকজন ভিসি ও প্রো-ভিসিকে শিগগিরই সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ফলে দায়িত্বে থাকা অনেকেই এখন পদ রক্ষায় নীতিনির্ধারক, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে নতুন করে নিয়োগ পেতে বিএনপিপন্থি শিক্ষক নেতারাও বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অনিশ্চয়তার প্রভাব প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও পড়ছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টিতে নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সার্চ কমিটির সুপারিশের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং সুশাসনকর্মীরা।
ইতোমধ্যে বিতর্কের মুখে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং আরেকজনের বিরুদ্ধে গবেষণা জালিয়াতি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। একাধিক বর্তমান ভিসি জানিয়েছেন, তাদের নিয়োগ বাতিল হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগ করছেন। কেউ কেউ অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ শেষ করার সুযোগ চাইলেও, অনেকে বলছেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।এ বিষয়ে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ঘন ঘন প্রশাসনিক পরিবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার জন্য ইতিবাচক নয়। তাদের মতে, ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে একাডেমিক যোগ্যতা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া সরকারের এখতিয়ার। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করেই এসব নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে।










