দুই বছরের সাজা: বিদিশার জামিন মেলেনি, কারাবাস ‘পর্যাপ্ত নয়’
মহিউদ্দিন:কোর্ট রিপোর্টার :
রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। বিদিশা এরশাদের আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটির তামাদির সময় মওকুফ করে আপিল আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। তবে আসামির কারাবাসের সময়কাল পর্যাপ্ত না হওয়ায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ২০০৮ সালের প্রতারণার একটি মামলায় চলতি বছরের ২০ মে বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যে অভিযোগে মামলা:
২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন বিদিশা এরশাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশা এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়। অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন বাদী। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধের মাধ্যমে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের পরও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে ফ্ল্যাট বা টাকা কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। টাকা কিংবা ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে হত্যার হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়। বর্তমানে মামলাটির সাজা ও জামিনের বিষয়টি নিয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রয়েছে।








