গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না, দেড় সপ্তাহেই স্বাভাবিক হবে: রিজভী
শহিদুল ইসলাম :স্টাফ রিপোর্টার:আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ করে শিল্পকারখানাগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী।রিজভী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট শুধু সরকারের কারণে সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে বৈশ্বিক নানা কারণ রয়েছে। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানাগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে মিল-কারখানাগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চলমান সংকট ধীরে ধীরে কমে আসবে।
এলএনজি আমদানিতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ
এলএনজি আমদানির প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার জন্য সরকার ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমও নেওয়া হচ্ছে।দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে রিজভী বলেন, বর্তমান সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেওয়া হবে না। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব
রিজভী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। এই বিপদ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। তাই দলের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি ও নির্বাচনি ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় করণীয় তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এও পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি কমাতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি দেশের জলাভূমি, নদী, নালা, খাল ও বিল পুনঃখনন এবং দূষণমুক্ত করতে হবে। বিভিন্ন শিল্পকারখানার রাসায়নিক ও বিষাক্ত পদার্থের কারণে দেশের জলাশয় ও নদ-নদী দূষিত হচ্ছে। এগুলো রক্ষায় সরকার কাজ করছে।
পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য
সরকার পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জানিয়ে রিজভী বলেন, এরই অংশ হিসেবে গত ছয় মাসে নির্ধারিত আড়াই কোটি গাছের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় তিন কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘বৃক্ষ হচ্ছে পৃথিবীর প্রকৃতির ড্রয়িংরুম। মানুষ যেমন নিজের ঘর সাজায়, তেমনি বৃক্ষের মাধ্যমে পৃথিবীকে সাজানো যায়। বৃক্ষ যত সতেজ হয়ে বেড়ে উঠবে, পরিবেশ তত নির্মল হবে এবং মানুষ বিশুদ্ধ অক্সিজেন পাবে।’বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণ উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রিজভী বলেন, সৌদি আরবের আরাফাত ময়দানে নিমগাছ লাগানোর উদ্যোগও পরিবেশ সচেতনতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বুধবার ৩০০ ফিট এলাকায় নিম ও কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো হয়েছে।অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাকসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









