২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শেষ আজ, বাড়তি কোটা নিয়ে সৌদির সঙ্গে আলোচনা
জিয়াউল হক টুটুল:
২০২৭ সালের পবিত্র হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনের সময় আজ শনিবার শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিপুলসংখ্যক হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তবে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটার বাইরে আরও ১০ হাজারের বেশি মানুষ হজ পালনে আগ্রহ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ১৩ হাজার ‘আনপেইড ভাউচার’ থাকায় নিবন্ধনের অর্থ পরিশোধের পর অতিরিক্ত আগ্রহী হজযাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা আরও স্পষ্ট হতে পারে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর হজ নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের অর্থ জমা দেওয়ার সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাগুলোকে স্বাভাবিক সময়ের পরও কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৫৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭০ হাজার ৮৬৪ জনসহ মোট ৭৫ হাজার ৯১৮ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ফলে ৭৮ হাজার ৫০০ জনের নির্ধারিত কোটার বিপরীতে ২ হাজার ৫৮২টি আসন খালি রয়েছে। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় এখনো প্রায় ১৩ হাজার ‘আনপেইড ভাউচার’ রয়েছে। এসব ভাউচারের বিপরীতে নির্ধারিত অর্থ জমা পড়লে নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে। এতে বাংলাদেশের নির্ধারিত কোটার তুলনায় অতিরিক্ত হজযাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কোটার বাইরে নিবন্ধন নয়:
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত হজযাত্রী নিবন্ধন করা হবে না। তবে বাড়তি কোটা পাওয়ার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি আরবকে জানানো হবে। এরপর চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, আবাসন ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ, টিকা প্রদান, প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আগের ঘোষণাতেও নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর দ্রুত এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা জানানো হয়েছিল।
বাংলাদেশের হজ কোটা ৭৮ হাজার ৫০০:
২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। গত ২৭ জুলাই চূড়ান্ত নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না।
বাড়তি কোটার বিষয়ে সৌদির সঙ্গে আলোচনা:
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোটার বাইরে অতিরিক্ত হজযাত্রীদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে হজ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই চুক্তির আলোচনায় বাংলাদেশের হজ কোটা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। অতিরিক্ত আগ্রহী হজযাত্রীদের সংখ্যা কত এবং তাদের জন্য কতটি বাড়তি কোটা প্রয়োজন—এ বিষয়ে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত কোটা চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। হজ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আপাতত নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত নিবন্ধন করা হবে না। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সাদ ইন্টারন্যাশনাল হজ এজেন্সির মালিক শহীদ উল্লাহ খান বলেন, প্রায় ২০ হাজার হজযাত্রী অতিরিক্ত আগ্রহী রয়েছেন। তাদের জন্য আরও ২০ হাজার অতিরিক্ত কোটা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
খরচ কমায় বেড়েছে আগ্রহ:
সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের ব্যয় ও বিমান ভাড়া কমানোসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ায় হজযাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। ২০২৭ সালের জন্য হজের সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, নির্ধারিত কোটার বাইরে অনেক হজযাত্রী হজ পালনের আগ্রহ দেখিয়েছেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে এবং কোটার বাইরে আগ্রহী হজযাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। হজযাত্রীদের জন্য সার্বিক ব্যবস্থাপনা সহজ, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে চূড়ান্ত নিবন্ধন শেষ হওয়ার পরই বাংলাদেশ থেকে ২০২৭ সালের হজে অংশগ্রহণকারী যাত্রীদের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে। সেই তালিকার ভিত্তিতে পরবর্তী প্রস্তুতি ও সৌদি আরবের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।









