জুলাই গণ-অভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘরের টাকা লুটপাট করেছেন গণভবনের অতন্ত্র প্রহরী সানাউল্লাহ’

সময়: 5:09 am - September 29, 2026 |

শহিদুল ইসলাম: “ফ্যাসিস্ট উত্তর বাংলাদেশে সুবিধাভোগী ফ্যাসিবাদের দোসররাই”

২০২৪ এঁর গণঅভ্যুত্থানের পরে নামকা ওয়াস্তে কিছু পরিবর্তন হলেও আওয়ামীলীগের কাঠামো ঠিক রাখতে তাদের পৃষ্ঠপোষকরা ভোলপাল্টে রয়ে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। এই যেমন জুলাই গণ-অভ্যূথান স্মৃতি জাদুঘরের কথাই ধরা যাক। এই প্রকল্পটি গণপূর্ত অধিদপ্তর এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রকল্পের যিনি নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন এ এস এম সানাউল্লাহ, তিনি শেখ হাসিনার আমলে গণভবন -প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। আরেক ছাত্রলীগ নেতা শাহ আলম ফারুক চৌধুরীর ছয় বছর পূর্ন হলে তাকে সরিয়ে দিয়ে, ভারতীয় প্রেসকিপশনে সানাউল্লাহ কে নিয়ে আসেন হাসিনার এপিএস২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু। কেননা তার ডিএনএ আগেই চেক করা আছে। তিনি এর আগে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবেও কাজ করেছেন। তা এই হেন আওয়ামীলীগার ছাড়া জুলাই জাদুঘর নির্মান কাজের তদারকিতে আর কাউকেই যোগ্য মনে হয়নি প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের। শামীম আখতার জুলাই গণ-অভ্যূত্থানের পরে কয়েকদিন পালিয়ে থাকলেও পরে উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে দিব্বি টিকে যান। তিনি নিজেকে বাচাতে ইলিয়াস, সিটি মাহাবুব, চুন্নু এদের কয়েকজনকে ঢাকার বাহিরে বদলী করলেও তার এই ক্যাশিয়ারকে আগের জায়গায় রেখে দেন। আসলে এখানে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য বিশ্বস্ত লোক দরকার ছিল। যাদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির ভুরিভুরি প্রমান রয়েছে তারাই আবার সততার সার্টিফিকেট বিতরন করছেন। এই আওয়ামী সিণ্ডিকেট আর তাদের তাবেদার মিডিয়া বলে বেড়াতো শেখ হাসিনা নাকি বিশ্বের দ্বিতীয় সৎ প্রধান মন্ত্রী ছিলেন! আবার ফ্যাসিবাদিরা যেমন কখনো জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার দিতে রোকেয়া প্রাচী ছাড়া আর কাউকে চিনতো না, গণপূর্ত অধিদপ্তরে বিদ্যমান শক্তিশালী কয়েকটি সিন্ডিকেটের থেকে সানাউল্লাহ সততার তেমন সনদ নিয়েছেন। কিন্তু আদতে তিনি কত টুকু সৎ? নাকি ছদ্মবেশে ভন্ড পীরের থেকেও বেশী ভন্ড, আজ আমরা তাই জানার চেষ্টা করেছি । যেমন, জুন ২০২৪ এ ‘প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্যাফেটেরিয়া ও বিভিন্ন হলের অন্দর সয্যা পরিবর্তন (উপ খাতঃ ভি আই পি ক্যাফেটারিয়া রেনোভেশন) জন্য ৩কোটি ১৪ লক্ষ টাকার কাজ’ টি না করেই বিল দিয়ে দিয়েছেন। জুলাই আশীর্বাদ হয়ে আসায় সেই কাজ এর খোজও কেউ নেয়নি। কিন্তু নিয়ম থাকলেও কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরের ছবি এবং প্রত্যাশী সংস্থার কোন প্রত্য্যন তিনি দেখাতে পারবেন না। একই ভাবে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ে ক্যাফেটেরিয়া ও বিভিন্ন হলের অন্দর সয্যা পরিবর্তন (উপ খাতঃ ব্যাঙ্কুয়েট হল নির্মান) জন্য ২কোটি ৬০ লক্ষ টাকার কাজটি না করেই বিল দিয়ে দিয়েছেন। আমরা বলছিনা তিনি ঘুষ খেয়েছেন বা ঠিকাদারের সাথে টাকা ভাগাভাগি করেছেন। আপা চলে জাওয়ার পর আওয়ামী ছোট ভাইদের পকেট গরম রাখতে তার মতো বড় ভাই এর একটা দায়িত্ব আছেনা? এছাড়া একই সুযোগে গণভবনে এস এস এফ এর ফাইয়ারিং রেঞ্জের প্রায় চার কোটি টাকার কাজ করেনওনি, ফান্ডও ফেরত দেননি। শামীম আখতারের আসকারায় অন্য সবাই রাজস্ব বাজেটের কাজ যা এপিপি হিসাবে পরিচিত তা সকল ডিভশনে সর্বোচ্চ ২০% উম্মনুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (OTM) তে করার বিধান থাকলেও সানাউল্লাহ শত ভাগ ওটিএম করেও ছিলেন জবাব দিহীতার বাহিরে। তিনি ওটিএম করে তার নির্দিষ্ট পছন্দের ঠিকাদারদের ৯০% কাজ দিতেন। আমরা ঢাকা ডিভিশন ২ এর বঞ্চিত ঠিকদারদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি তিনি যুবলীগনেতা তাসবিরুল হক অনু, শেখ হাসিনার মামাতো ভাই শেখ আদিলুর রহমান হীরা, ঢাকা মহা নগর দক্ষিন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান, জগন্নাথ কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা পঙ্কজ, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রনি(গোপালগঞ্জ),রুহুল কুদ্দূস, তানভীর, জাকির এদেরকে একচেটিয়া কাজ দিয়ে কোটি কোটি তাকার মালিক হয়েছেন। ধানমন্ডিতে জমির রিপোর্টে দালালের মাধ্যমেবছরে পাঁচ কোটি টাকা কামিয়েছেন মর্মে ডিভিশনের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন। সততার মূখোশ ধরে রাখতে সব সময় সিন্ডিকেটে বেছে বেছে সাবেক ছাত্রলীগারদেরই নিতেন। উপসহকারী প্রকৌশলী হিসাবে তার পছন্দের ছিল মোর্শেদ, সাদ্দাম সহসাবেক ছাত্রলীগ নেতারাই। তাছাড়া তিনি উপবিভাগীয় প্রকৌশলী থাকার সময় থেকেই সাবেক পূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের ছেলের ফার্ম প্যারাডাইম আর্কিটেক্ট এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সলিউশন নামক প্রতিষ্ঠান কে অস্বাভাবিক উচ্চদরের এনালাইসিস আইটেম দিয়ে প্রাক্কলন করে ইন্টেরিয়রের নামে হরিলূট করছেন। শেখ হাসিনার দুই আমলে নানা দিবস পালন এ প্যাণ্ডেল নির্মানে পিয়ারু সর্দারের নাতি তানভীরকে একচেটিয়া কাজ দিয়ে গেছেন। তার ওটিএম বাণিজ্য নিয়ে ইজিপি আইডি উল্লেখ করে আমরা প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও সেসময় কোন ব্যবস্থা নেননি শামীম আখতার। তার আরেক ব্যবসায়িক পার্টনার তানভীর, যিনি নিজে যাত্রাবাড়ী ছাত্রলীগের সহসভাপতি, যার বাবা যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক। এই তানভীর তার লাঠিয়াল বাহীনির প্রধান ও বডিগার্ড ছিলেন। তানভীর ও তার বাবা২০২৪ এর জুলাই বর্ষা বিপ্লবের স্টালিনগ্রাদ খ্যাত যাত্রাবাড়িতে ছাত্র জনতার উপর অবৈধ অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে নীরিহ নাগরিকদের হত্যা করেছে। এইখুনি পিতা-পুত্র যুগল বর্তমানে পলাতক রয়েছে। সানাউল্লাহ নিজেও ৪ আগস্ট বিকালে শামীম আখতারের অফিস কক্ষে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে যে রুদ্ধদার বৈঠক হয়েছে সেই বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন। যখন হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়ে দেশ রক্ত গঙ্গায় ভাসছে, যখন ত্রিশ হাজারের উপরে নানা পেশার বিপ্লবীরা অঙ্গ হানী হয়ে চিকিৎসা নেবার সুযোগ না পেয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে, তখন তারা পরিকল্পনা করছে জুলাই যোদ্ধাদের অস্ত্র হাতে প্রতিহত করার, ৫ তারিখে যে কোন মূল্যে শেখ কামালের জন্ম দিন করার। সানাউল্লাহ নিজেও জুলাই এ ছাত্র গণহত্যা মামলার আসামী। অথচ তাকেই কিনা দায়িত্ব দেয়া হলো জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মান করবার? তিনি যথারীতি বেনামে সাব কনট্রাক্টর হিসাবে প্যারাডাইম কে কাজ দিয়ে মূলত সরকারী টাকা শহীদুল্লাহ খন্দকারের পেটে , পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগারদের পেটে ঢেলে দিয়েছেন। এদের নিয়ে টাকা ভাগাভাগি করতে অতি উচ্চদরে কোটি কোটি টাকার ভুয়া প্রাক্কলন করেন। যা তখনকার ঢাকা মেট্রো পলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জনাব খালেকুজ্জামান চৌধুরীর দৃষ্টি গোচর হলে তিনি দুই কোটি টাকার ভূয়া প্রাক্কলন কেটে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তৎকালীন পূর্ত সচিব এর কাছে সানাউল্লাহ্র আসল চেহারা উন্মোচিত হয়ে যায়। ফলে তাকে তখন শামীম আখতার এক প্রকার বাধ্যহয়ে সরিয়ে সেইফ এক্সিট দেন। সেই থেকে এই ফ্যাসিস্ট এর দোসর ঢাকার শেরে বাংলা নগর ৪ এ রয়েছেন। তিনি সেই যে খালেকুজ্জামানের উপর সংখুব্ধ হয়েছেন, তখন থেকে জায়গায় জায়গায় হেঁটে বেড়িয়েছেন আর খালেকুজ্জামানের বদনাম করে বেড়িয়েছেন। খালেকুজ্জামানের প্রধান প্রকৌশলী হওয়া ঢেকাতে নিজের সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ আরেক ‘র’ এর এজেন্ট সন্তোষ শর্মার পত্রিকায় রঙ্গচঙ্গা নিউজ করিয়ে প্রধান প্রকৌশলীকে টেনে হিচড়ে নামাতে সিণ্ডিকেটের সাথে কাজ করেছেন। এখন লটারির মধ্যে ক্যাটাগরি করে তার সিন্ডিকেটের শুভাকাঙ্খিরা তথা কথিত সৎ এই কর্ম কর্তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে আসার পায়তারা করছে। সত্যি কী বিচিত্র এই দেশ!

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর