গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদ্যমান ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন ও কার্যক্রম শুরুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মির্জা আল শামীম এতে সভাপতিত্ব করেন।
মানববন্ধনে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের আরএমজি সেক্টরে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শামীমা আক্তার, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অরবিন্দু বেপারী (বিন্দু), জাতীয় তৃণমূল শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজা খান, পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহমেদ বাবুল, স্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাকিল হোসেন মোবারক এবং মেহনতি গার্মেন্ট এন্ড টেক্সটাইল ফেডারেশনের সভাপতি জান্নাত ফাতেমাসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামে অর্জিত অর্থে দেশের অর্থনীতি সচল থাকলেও তাদের জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না। শ্রমিকরা শুধু দিয়ে যাবেন, নাকি বিনিময়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার অধিকারও পাবেন—এ প্রশ্ন জাতির কাছে রাখেন তারা।
বক্তারা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য ও পুষ্টি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, ইউটিলিটি ব্যয়, শিশু পরিচর্যা ও মূল্যস্ফীতিসহ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, নারী শ্রমিকদের ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ, নিরাপদ কর্মসংস্থান, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক কলোনি, শিল্পাঞ্চলগুলোতে হাসপাতাল এবং সম্মানজনক মজুরির দাবিতে সকল শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।
একই সঙ্গে সংগঠনটি বিশৃঙ্খল আন্দোলন প্রতিরোধে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের প্রস্তাবনা
১। মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিক সংগঠন, মালিকপক্ষ, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা নিশ্চিত করতে হবে।
২। নতুন মজুরি নির্ধারণের আগে শ্রমিক পরিবারের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রয়োজন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক জরিপ পরিচালনা করতে হবে।
৩। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর করার ক্ষেত্রে সাব-কন্ট্রাক্ট, ছোট ও অনিবন্ধিত কারখানাসহ তৈরি পোশাক শিল্পের সকল শ্রমিককে কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৪। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
৫। নতুন মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য ও পুষ্টি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, ইউটিলিটি ব্যয়, শিশু পরিচর্যা, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক প্রয়োজনকে যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।
৬। মজুরি বোর্ডে প্রকৃত, স্বাধীন ও প্রতিনিধিত্বশীল শ্রমিক প্রতিনিধি নিশ্চিত করতে হবে এবং শ্রমিক পক্ষের মতামত যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।
৭। বর্তমান ন্যূনতম মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু ‘Minimum Wage’ নয়, শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সক্ষম জীবনধারণ উপযোগী মজুরি বা ‘Living Wage’-এর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।
৮। মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি যাতে ক্রমাগত কমে না যায়, সে জন্য ভবিষ্যতে নিয়মিত মূল্যস্ফীতি-সমন্বিত মজুরি বৃদ্ধির ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
মানববন্ধনে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মানববন্ধন শেষে গার্মেন্টস ফেডারেশন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. মির্জা আল শামীম সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
















