ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে সমঅধিকার নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

সময়: 8:30 am - October 10, 2026 |
মানব কথা ডেস্ক:

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, বরং সমঅধিকার, সমমর্যাদা ও সমনিরাপত্তার ভিত্তিতে সব নাগরিকের একমাত্র পরিচয় হবে বাংলাদেশি—এমন একটি দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে সবার এসব অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা কখনো নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে না। সবার পরিচয় হবে একটাই—আমরা বাংলাদেশি। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্য কিংবা বিভেদের শিকার হতে হবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচবেন এবং সমান মর্যাদা নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নেবেন। দেশের জনগণই বাংলাদেশের মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক, মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হবে ঐক্য।

শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রসঙ্গ তুলে মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করে। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এ উৎসবের অন্যতম মূল তাৎপর্য। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন। এ উৎসবের আনন্দ যেন সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন। শনিবার সকাল ৬টার দিকে মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। পরে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মহালয়ার তাৎপর্য ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দুর্গোৎসবের এই শুভ সূচনা সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর