একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

সময়: 3:24 pm - October 30, 2026 |

খুলনা প্রতিনিধি:

বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে খুলনা রেঞ্জের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত ২৮ পুলিশ সদস্যকে একযোগে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের মধ্যে বাবুর্চি থেকে শুরু করে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া সদস্যদের তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের নাম রয়েছে। থানা ছাড়াও ট্রাফিক ও গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত সদস্যদেরও তালিকায় রাখা হয়েছে। পুলিশের দায়িত্ব আইন প্রয়োগ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা নিলে তা পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অভিযান পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এর ফলে অপরাধীরা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও পুলিশের কাছ থেকে ন্যায়সংগত সেবা পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ সদস্যদের আর্থিক ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা নির্ধারণ করা জরুরি।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সদস্যদের প্রত্যাহারকে প্রাথমিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পরবর্তী বিভাগীয় তদন্তে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি, অপরাধের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়াও জরুরি। খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ কারণে প্রথমে বাহিনীর ভেতরে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পুলিশের ওপর জনআস্থা তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিরও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ডিআইজি আরও বলেন, আইজিপির নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অননৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘটনায় বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে পরবর্তী তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় সিদ্ধান্তই এখন দেখার বিষয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর