গণপূর্তের ত্বত্তাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান যেন বাংলাদেশী জেফ্রি এপস্টেইন,অভিজাত শ্রেনীর হানিট্র্যাপে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার
বিশেষ প্রতিনিধি, নিলয় মাহমুদ: বিশ্ব তোলপাড় করা মার্কিন ইহুদী ধন কুবের জেফ্রি এপস্টেইন এর যৌন কেলেঙ্কারির কথা আমরা সবাই জানি। এই ধন কুবের কেরিবিয়ান সমুদ্রে ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেইন্ট আইল্যান্ডে প্রমোদকেন্দ্র বানিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে তাবত ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নিয়ে এসে হানি-ট্র্যাপ করতেন, বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে ফায়দা লুটতেন। ঠিক একই কায়দায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান, মিডিয়া কর্মী ও হাই সোসাইটি কল গার্লদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদবীর বানিজ্যের একটি নেট-ওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এই সুন্দরী মিডিয়া কর্মীদের ব্যবহার করে তিনি অতি ক্ষমতাধর আমলা, রাজনীতিবীদদের হাত করে তার অগনিত সহকর্মীদের ব্ল্যাক মেইল আর তদবীর বানিজ্য করে শত শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন। সেই টাকা আবার বান্ধবীদের দিয়ে বিদেশ পাচারও করেছেন। এদের কাউকে কাউকে আবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো মেলা মেশাও করেছেন, বলে জানিয়েছেন ভূক্ত ভোগী এক নারী। ওই নারী আগে দেশের প্রভাবশালী এক ইংরেজী দৈনিকের শেয়ার হোল্ডার ছিলেন। ব্যক্তি গত জীবনে আগে থেকে বিবাহিত বদরুল, দুই কন্যা সন্তানের জনক। ঢাকার খিলগাঁও এ ২২ নম্বর সড়কে প্লট নম্বর-ত/৫ এ যে বাড়িতে থাকেন সেটি তার শ্বশুরের। ভূক্ত ভোগী নারী সাংবাদিক অবশ্য জানতেন তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। সব কিছু জেনে বুঝেই তিনি বদরুল এর প্রেমের ফাদে পা দেন। গত বছর সেই নারী বদরুলের পাচার করা টাকা সহ অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমান। প্রবাসে বসেও তাদের পরকিয়া সম্পর্ক চালু ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বদরুল এটিএন নিউজের এক সংবাদ পাঠিকাকে বিয়ে করলে , অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ওই নারী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। সপ্রতি ওই নারী আমাদের প্রতিনিধির সাথে তার অস্ট্রেলীয় নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে Whatts App এ অনেক গোপন তথ্য জানিয়েছেন। ওই কথোপ কথোনের অডিও আমাদের হাতে রয়েছে। সেখান থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। ভুক্তভোগী ওই নারী বদরুলের সাথে তার ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের এবং হোয়াটসেপ চ্যাটের কিছু স্ক্রিন শটও আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। আমাদের সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুযায়ী ভুক্তভোগী নারীর গোপনীয়তা রক্ষায় আমরা তার প্রকৃত নাম প্রকাশ করছিনা। তবে ফ্যসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পুরোটা সময় বদরুল ওই নারীকে দিয়ে উচ্চ মহলে তদবীর করিয়েছেন। মহিলার ভাষ্য মতে তিনি নিজেকে সবচেয়ে প্রভাবশালী ইংরেজী দৈনিকের সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিতেন, সে সময় তিনি নিজেকে সাংবাদিক রোজি হিসাবে পরিচয় দিতেন। এই রোজিকে দিয়ে তিনি ধানমন্ডির শংকরে অবস্থিত নন্দিণী সোসাইটি তথা নন্দিণী হোটেলে প্রভাব শালী আমলাদের নিয়ে যেতেন। ফলে ওই আমলারা তার আবদার ফেলতে পারতেন না। ফলে পূর্ত মন্ত্রনালয়ে বদরুল অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। এই রোজির ভাষ্য মতে একজন ক্ষমতাধর আমলা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অস্টেলিয়া ভ্রমনের সময় তার জন্য ১৯ কেজি ওজনের লাগেজে ভরে উপহার সামগ্রী নিয়ে যান। ওই আমলাকে ম্যানেজ করে তিনি ও বদরুল কিভাবে উচ্চপদে ও বিভিন্ন দপ্তরে, দপ্তর প্রধান চেঞ্জ করতেন সে বিষয়েও বিস্তারিত বলতে চেয়েছেন। বদরুল তার রাম রাজত্ব কায়েম করতে যাদেরকে প্রতিপক্ষ ভেবেছেন তাদেরকেই একেবারে শেষ করে দিতে চেয়েছেন। তার এমনই এক আক্রোশের শিকার ঢাকা গণপূর্ত শেরেবাংলানগর বিভাগ ৩ এর সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম। বিগত সরকারের সময়ে ঢাকার তিনটি গুরুত্ব পূর্ণ ডিভিশনে নির্বাহী প্রকৌশলীর দ্বায়িত্ব পালন করা প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম সাবেক দুই প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম ও শামীম আখতারের আস্থাভাজন ছিলেন। তিনি বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীরও আস্থাভাজন হওয়ায় বদরুল তাকে শায়েস্তা করতে জনৈক আমিরুল ইসলাম কে দিয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করান মর্মে রোজি জানান। রোজি দাবি করেন তিনি নিজে পিছন থেকে কল কাঠি নেড়ে আতিককে তিরস্কার লঘু দন্ড আরোপ ও মাগুরায় নিবর্তন মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করেন। রোজি আরও জানান, তিনি আতিককে আরও বড় শাস্তি থেকে পরিত্রান দিতে তার মাধ্যমে বদরুল ২০ লক্ষ টাকা নেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আতিক তার ড্রাইভার পরিচয়ে একজনের মাধ্যমে রোজির লোকের কাছে ২০ লক্ষ টাকা দেন, পরে ওই টাকা বদরুল নেন। ওই নারী প্রতিবেদককে আরও বলেন, বদরুল দুদক এর সাবেক কমিশনার তার সম্পর্কে নানা হন বিধায়, তার প্রভাব খাটিয়ে ২১ তম বিসিএস এর কর্মকর্তা ত্বত্তাবধায়ক প্রকৌশলী (পিপিসি) জনাব এ কে এম সোহরাওয়ার্দী এর বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করান। পরে রোজিকে দিয়ে ইংরেজী পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। সোহরাওয়ার্দীকে ভয় দেখানোর সেই হোয়াটসএপ এর স্ক্রিনশটও ওই প্রবাসী নারী সাংবাদিক আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন। রোজি দাবি করেন, তাকে ব্যবহার করে বদরুল আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে এবং অতর্বর্তী কালীন সরকারের সময়ে বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ভয় দেখিয়ে কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা আদায় করেছেন এবং বদরুলের কাছে নাকি এখন ২৫০ কোটি টাকা রয়েছে। রোজিকে তিনি স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে কোটি কোটি টাকা মানি লন্ডারিং করেছেন। অথচ বদরুল ভিকটিম কার্ড খেলে নিজেকে বিএনপি পন্থী হিসাবে বঞ্চিত দাবী করে প্রথমে সাভার সার্কেলে, পরে ঢাকা সার্কেল ১ এ বসেন। রোজি প্রতিবেদককে জানান, তার আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু মহলে সবাই জানতেন যে বদরুল তার হবু স্বামী। তারা দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর মতো মিশেছেন, ফলে তিনি যখন জানতে পারেন বদরুল দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, তখন তিনি ফাসিতে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ফলে তার চোখ ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মক ক্ষতি গ্রস্ত হয়। সে সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্টও তার কাছে রয়েছে। তিনি অচিরেই বাংলাদেশে এসে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করবেন মর্মেও জানান। শুধু এই ইংরেজী পত্রিকার প্রবাসী সাংবাদিক বা এটিএন নিউজের সংবাদ পাঠিকা নন, আমরা গোপন অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি হাটুর বয়সী সোনালী রঙ করা চুলের এক উঠতি মডেল কাম টিকটকার কেও তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভোগ করছেন। সেই নারীকেও রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে দিয়েছেন। সেই নারীকেও বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। বলিউডের পেইজ থ্রি ছবির মতো এই সব স্ট্রাগলার মডেলরা হাই সোসাইটি পার্টিতে মনোরঞ্জনের জন্য থাকে, এদেরকে বলাহয় সোসাইটি গার্ল বা আই ক্যান্ডি। সমাজের উচু তলার মানুষ গুলো তা পাশ্চাত্যেই হোক বা প্রাচ্যে একই রকম থাকে। এদেশে কত মানুষ না খেয়ে থাকে, কত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবার নিষ্ঠুর যান্ত্রিক নগরে বাসা ভাড়া যোগার করতেই হিমশিম খায়। আর এরা শত শত কোটি টাকা মদ, নারী আর বিনোদনে ব্যয় করেই ক্ষান্ত হয় না, বিদেশে পাচার করে দিয়ে দেশের অর্থনীতি খোকলা করে দিচ্ছে। সাম্য ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় এই নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেনিয়াদের সম্পদ পাচার বন্ধ করতে হবে। জনগনের বিপুল ভোটে নির্বাচিত এই সরকার গণ-আকাঙ্খা পূরনে আমলা, রাজনীতিবীদ, প্রকৌশলী,ব্যবসায়ী, মিডিয়া কর্মীদের এই লাম্পট্য পূর্ণ অভিজাততন্ত্র বিলোপে কঠোর পদক্ষেপ নিবে এমনটাই প্রত্যাশা। পরবর্তীতে বদরুল আলম সিন্ডিকেটের নারী কেলেংকারীরসহ টেন্ডার বানিজ্য ও বদলী বানিজ্যের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উধ্বর্তন কর্মকর্তা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এই বিষয়ে দৈনিক মানব কথা কে মোঃ বদরুল আলম খান বলেন এই ঘটনা সত্য নয় আমার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র চালাচ্ছে একটি পক্ষ প্রতিবেদক আপনার আর মেয়ের হোয়াটস্ অ্যাপের স্কিন সর্টের প্রমানের কথা বললে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
















