হামে মৃত শিশুদের পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

সময়: 10:02 am - May 10, 2026 |

মানব কথা:- দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসুবিধাসহ হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রোববার (১০ মে) মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট–এর পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার ও মো. মাকসুদুর রহমান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।
রিটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআর–এর পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরী–এর দ্বৈত বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে রিটটি দাখিল করা হয়।
রিটে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে দেশে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে। এতে দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি গুরুতর সংকটে পড়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়, টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নীতিগত পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অভাবের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রিটে উল্লেখ করা হয়, ইউনিসেফের মাধ্যমে পরিচালিত টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালুর পর হামের টিকার সরবরাহে সংকট দেখা দেয়।
রিটে আরও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত আইসিইউ, পিআইসিইউ ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসুবিধার অভাবে বহু শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায়নি। অনেক পরিবার হাসপাতাল ঘুরেও আইসিইউ বা পিআইসিইউ বেড সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। কমিটিকে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে সারাদেশে হাম ও জলাতঙ্ক টিকার মজুত, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাত দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী জরুরি প্রতিরোধমূলক ও চিকিৎসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। তদন্তে যাদের দায় প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গত ৫ মে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, রাষ্ট্র শিশুদের জীবন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এই রিটের উদ্দেশ্য শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যু ঠেকানো।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর