স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইসির বড় পরিবর্তন

সময়: 6:42 am - June 4, 2026 |

মানব কথা:আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধান থাকছে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদে নির্বাচনী জামানতের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা হতে পারে এবং আগামী অক্টোবর থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইসি সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামা রাখা বা না রাখার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তেমন কোনো বাস্তব প্রভাব পড়ে না। এ কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় এ শর্ত বাদ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার বিধান বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে।

ইউপি নির্বাচন দিয়েই ভোট শুরুর ভাবনা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের মধ্যে ইতিবাচক মত রয়েছে। কারণ উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের কিছু নির্বাচনী কার্যক্রম ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভোটের ওপর নির্ভরশীল। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত করে আগামী ১০ জুনের মধ্যে সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আশা করছে ইসি।

বাড়ছে নির্বাচনী জামানত
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী—
ইউপি চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হতে পারে।
ইউপি সদস্য পদে জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
পৌরসভা মেয়র পদে (এক লাখ বা তার বেশি ভোটারসংবলিত এলাকায়) জামানত ৩০ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা করা হতে পারে।
বড় সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে জামানত ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কাউন্সিলর পদে জামানত ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকা এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। সংরক্ষিত নারী সদস্যদের ব্যয়সীমাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্র, ভোটার তথ্য ও নির্বাচনী সময়সূচি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ক্যালেন্ডারভিত্তিক সফটওয়্যার প্রস্তুত করেছে। বিধি-বিধানের অনুমোদন ও বাজেট প্রক্রিয়া শেষ হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর