প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্কের কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন অগ্রগতি
মানব কথা:বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নেতৃত্বে নিয়মিত ‘২+২’ কৌশলগত সংলাপ এবং বার্ষিক পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভা আয়োজনেও সম্মত হয়েছে উভয় দেশ। শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে একটি যৌথ পরামর্শমূলক কমিটি গঠনের বিষয়ে সমঝোতা হয়। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে বার্ষিক ‘২+২’ সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যৌথ উৎপাদন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন হাকান ফিদান। তিনি বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সূচনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের জন্য তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়া জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে:
ঢাকা সফর শেষে বিদায়বার্তায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্ব কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর বন্ধন। ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর করতে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এসে নতুন সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, জনগণের প্রত্যাশা এবং দুই দেশের সহযোগিতার বিস্তৃত সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করেছেন। আগামী দিনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, মানবিক সহায়তাসহ সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সফরের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হাকান ফিদান বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানে তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় আসেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরকালে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।









