প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকপণ্য আরও সস্তা হবে, বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি: বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা

সময়: 9:32 am - June 17, 2026 |

শহিদুল ইসলাম>অর্থনীতি>জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে তামাকজাত পণ্যের কর ও মূল্য কাঠামো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম সামান্য বাড়ানো হলেও বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় এসব পণ্য আরও সহজলভ্য হবে, যা তামাক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মীরা।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদুল হক, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্নস্তরের সিগারেটের দখলে, যার প্রধান ভোক্তা তরুণ ও নিম্নআয়ের মানুষ। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শলাকার নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির তুলনায় অপ্রতুল। ফলে বাস্তবে তামাকপণ্য আরও সস্তা হয়ে পড়বে বলে দাবি করেন বক্তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার দাম ১০০ টাকা এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারত। একই সঙ্গে প্রায় ৪ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো বলেও তারা দাবি করেন।তারা আরও বলেন, বিড়ি, জর্দা ও গুলের দাম ও কর অপরিবর্তিত থাকায় এসব ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নারীদের মধ্যে আরও সহজলভ্য থাকবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।সংবাদ সম্মেলনে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর কর আরোপের সমালোচনাও করা হয়। বক্তাদের মতে, এতে এসব নতুন ধরনের ক্ষতিকর পণ্য পরোক্ষভাবে বৈধতা পাবে এবং তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়বে।বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে দেশে ৩৫ শতাংশের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের চেয়েও বেশি।

এ পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে তামাক কর ও মূল্য কাঠামোর আমূল সংস্কার, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূতকরণ, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু এবং বিড়ি-জর্দাসহ সব তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি জানান তারা। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচ, ই-সিগারেট ও অন্যান্য নতুন তামাকজাত পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর