মানব পাচার রোধ ও ভিসা সহজীকরণে যৌথ উদ্যোগ, বাণিজ্য-নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম
মানব কথা:বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং মানবপাচার প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ। বুধবার সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তা বিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং। বৈঠকে মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন, মাদক চোরাচালান ও আন্তদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ভিয়েতনামের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। তিনি ১৯৭৩ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ ভিয়েতনামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতা, অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন এবং বৈধ পর্যটক, ব্যবসায়ী, কর্মজীবী ও পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। এ সময় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বাণিজ্যকে আরও সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমোদন দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ আমদানির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগেরও আহ্বান জানান। বৈঠকে আসিয়ানে বাংলাদেশের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ মর্যাদা এবং আরসিইপির সদস্যপদ অর্জনে ভিয়েতনামের সমর্থন কামনা করে বাংলাদেশ। জবাবে ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশা প্রকাশ করে।









