সহসাই কাটছে না গ্যাস সংকট, আবাসিকে চরম ভোগান্তি

সময়: 9:09 am - July 29, 2026 |

মানব কথা: রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনেক আবাসিক গ্রাহকের চুলায় গ্যাস থাকছে না কিংবা থাকলেও চাপ এত কম যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা গৃহিণী পারভীন বলেন, সারাদিন চুলায় গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। কখনো রাতে গ্যাস এলে তখনই রান্নার কাজ শেষ করতে হয়। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, চুলায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে রান্না করতে দীর্ঘ সময় লাগছে। অনেক সময় এক ঘণ্টাতেও রান্না শেষ করা যাচ্ছে না। এতে পরিবারের খাবার প্রস্তুত করতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গ্যাস সংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের অনেকে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ও ইনডাকশন চুলা ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে গ্যাসের মাসিক বিল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবারের রান্নার খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানান, তিতাসের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় সরবরাহ প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। টার্মিনাল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ সারি:  শুধু আবাসিক গ্রাহক নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছেন না। মগবাজারের আনুদীপ সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা সিএনজিচালক মো. আল আমিন বলেন, যে স্টেশনেই যাচ্ছেন, সেখানেই গ্যাসের সংকটের কথা বলা হচ্ছে। কোথাও গ্যাস থাকলেও চাপ কম থাকায় চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক চালক মো. কাউছার বলেন, দৈনিক গাড়ি চালানোর জন্য যে পরিমাণ গ্যাস প্রয়োজন, তা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ট্রিপের সংখ্যা কমাতে হচ্ছে। এতে তাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি করা জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে গ্যাস সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানের কোনো বিকল্প নেই। দেশে গ্যাসের সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলনে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সরকার নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে এ উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। দ্রুত দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এদিকে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এলএনজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর আবাসিক ও পরিবহন খাতে গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটছে না। ফলে আপাতত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহক ও সিএনজি নির্ভর যানবাহন ব্যবহারকারীদের।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর