ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, অতিরিক্ত সচিবের নিয়োগ বাতিলসহ ৯ দফা দাবি জামায়াতের

সময়: 10:07 am - July 29, 2026 |

মানব কথা: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে দলটি।  বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে নয়টি প্রস্তাবসংবলিত একটি চিঠিও নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দিলেও কমিশন সেই সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না। সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে কমিশন রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে বলে তাদের মনে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক চাপের কারণে কমিশন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে আজ্ঞাবহ ভূমিকা পালন করছে। এ সময় তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সরোয়ার আলমের গেজেট ও শপথের বিষয়টি তুলে ধরে কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবি:

ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, সামসুল আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এমন একজনকে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এর আগে ২৮ জুলাই সংবাদ সম্মেলনেও দলটি এ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছিল।  জামায়াতের ভাষ্য, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসি সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন নিয়োগ নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা বক্তব্য বা নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চায় জামায়াত:

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবও বাতিলের দাবি জানিয়েছে দলটি। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের অযোগ্য করার যৌক্তিকতা নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তিনি। জামায়াতের এ দাবির বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল।

নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি:

নির্বাচনের সময়সূচি ও তারিখ নির্ধারণে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্য নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জামায়াত। দলটির দাবি, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণের আইনগত এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। তাই সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বা মাস ঘোষণা করা বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সদস্য বা পদধারীদের ব্যক্তি পরিচয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রার্থিতা নিয়ে বিধিনিষেধ এবং নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীদের সরাসরি প্রভাব বিস্তার বন্ধে কঠোর বিধি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে দলটি।

আরও যেসব বিষয় তুলেছে জামায়াত:

বৈঠকে দল থেকে বহিষ্কৃত এক সংসদ সদস্যের পদ বহাল থাকা না থাকার বিষয়টিকে সাংবিধানিক জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি। এ ছাড়া যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বাড়িতে হামলা ও পরিবারের সদস্যদের হয়রানির অভিযোগেরও প্রতিবাদ জানায় জামায়াত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে গণমাধ্যমকে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার ও অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর