রপ্তানিতে মন্দার মধ্যেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, অর্জন নিয়ে সংশয়

সময়: 8:23 am - August 1, 2026 |

মানব কথা: দেশের রপ্তানি আয় টানা নেতিবাচক ধারায় থাকলেও ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে জ্বালানি সংকট, উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রধান রপ্তানি বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এই লক্ষ্য অর্জন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রপ্তানিকারক ও অর্থনীতিবিদরা। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করে মোট ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই সচিবালয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণবিষয়ক সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। তিনি জানান, চলতি বছর কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরের চিত্র ছিল ভিন্ন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে দেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। অথচ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার কম আয় হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন কঠিন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিল্পে জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং প্রধান বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে এ ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন বাস্তবসম্মত নয়। রপ্তানিকারকদের ভাষ্য, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, গ্যাস সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দুর্বল চাহিদা রপ্তানি খাতকে চাপে ফেলেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু গত অর্থবছরে এই খাতেও রপ্তানি আয় কমেছে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা জ্বালানি সংকট। এতে উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ১৫ শতাংশ নয়, ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনও কঠিন হবে। বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর মতে, গ্যাস সংকট, উৎপাদন ঘাটতি, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দুর্বল চাহিদার কারণে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারকদেরও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্কের চেয়ে সেখানে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়াই এখন বড় সমস্যা। ফলে চামড়া খাতের রপ্তানি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর