মেগা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের নতুন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ

সময়: 7:17 am - August 30, 2026 |

মানব কথা: পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ। তিনি বর্তমানে ফেনী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে হাসান মাহমুদের নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে এগিয়ে নিতে সরকারি আর্থিক ও পরিকল্পনাসংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) ২০২৫ অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটি গত ১৩ মে ২০২৬ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ হলে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মিষ্টি পানির প্রবাহ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অনাবাদি জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

লবণাক্ততা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে:

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে সমুদ্রের নোনা পানি নদ-নদী ও জলাধারে প্রবেশ করে। এতে নদীর পানি, মাটি ও কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপদ পানির সংকটও তৈরি হয়। পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে মিষ্টি পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করা গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। সংরক্ষিত পানি শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসতে পারে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার প্রত্যাশা:

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সম্ভাব্য সুফলের মধ্যে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় লবণাক্ততার প্রভাব বাড়ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যাপ্ত মিষ্টি পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সুন্দরবনের সংবেদনশীল প্রতিবেশব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়তা মিলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নদীভাঙন ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর উদ্যোগ:

প্রকল্পের আওতায় সুপরিকল্পিত ক্যানাল নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন ক্যানাল স্ট্রাকচার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও পানি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের ফলে কিছু এলাকায় নদীভাঙন কমানো এবং পলি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ভূ-উপরিস্থ মিষ্টি পানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষি ও অন্যান্য কাজে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অতিরিক্ত নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হতে পারে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতে জোর:

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মতো বড় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্প পরিচালককে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পিপিএ ২০০৬ ও পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসান মাহমুদ ফেনী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই মেগা প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম কতটা পরিকল্পিত ও গতিশীলভাবে এগিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর