চার শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন নয়: আমির খসরু
মানব কথা: সরকারি অর্থের অপচয় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও যথাযথ প্রতিদান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত ৪টি শর্ত পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে আমি ৪টি বিষয় নিশ্চিত করি। প্রথমত, সেখানে অর্থের সঠিক মূল্য আছে কি না; দ্বিতীয়ত, এই বিনিয়োগ থেকে কী রিটার্ন বা প্রতিদান আসবে; তৃতীয়ত, এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে কি না এবং চতুর্থত, পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কি না। এই চারটি শর্ত পূরণ না হলে আমার কাছে কোনো প্রকল্প আনবেন না। আমি ফেরত পাঠিয়ে দেব।’তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা। কোনো অবস্থাতেই এই টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না।’
চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি বাণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময়, আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে ঢাকায় প্রথম একটি আইটি ইনকিউবেটর করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারগুলোর ধারাবাহিক উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে সেখান থেকে পুরোপুরি সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়নি।’চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটরে বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই বিনিয়োগ থেকে আমরা আদৌ কোনো ভালো ফলাফল পাচ্ছি কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
আইটি ইনকিউবেটর পরিচালনায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি—এই ৩টির নিয়ন্ত্রণ থাকলে সেখানে কাজ হয় না। এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের বিষয়। তাই এটি চুয়েটের নিজেরই পরিচালনা করা উচিত। এখান থেকে কী আউটপুট আসবে, তার পরিকল্পনাও চুয়েটকেই করতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ঢাকায় ফিরে আমি আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলব। চুয়েটের উপাচার্যকেও ঢাকায় এসে বৈঠক করে এই জটিলতার স্থায়ী সমাধান করার পরামর্শ দিচ্ছি।’চুয়েটের উপাচার্যের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতার প্রশংসা করে আমির খসরু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য চুয়েট উপাচার্যের বেশ কিছু ভালো ধারণা রয়েছে এবং তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আশা করি, বিজনেস-অ্যাজ-ইউজুয়াল ধারার বাইরে গিয়ে অল্প সময়ে চুয়েটকে তারা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’









