পুলিশে দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত নয়, ফ্যাসিবাদীদের সহায়তা করলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিজানুর রহমান:
পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সরকার প্রয়োজনে কঠোর হতে বাধ্য হবে। জনগণের শান্তি বিনষ্ট হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, সেবায় অনন্য নজির, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশের ৯২ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক দেওয়া হয়। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সময়ের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চারটি ক্যাটাগরিতে এসব পদক দেওয়া হয়েছে।
জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায় জনগণ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশবাসী জনবান্ধব পুলিশ দেখতে চায়। তাই পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশের সক্ষমতা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে দায়িত্বশীল ও কঠোর হতে হবে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা জনগণের প্রত্যাশা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন না করা কিংবা দায়িত্বে অবহেলার ঘটনাও পুলিশের মধ্যে রয়েছে। এসব বিষয়ে ধীরে ধীরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।
ফ্যাসিবাদীদের সহায়তার অভিযোগে ব্যবস্থা:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বাহিনীকে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, পুলিশের কিছু সদস্য গোপনে সংবাদ দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সহযোগিতা করছেন—এমন তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা রাষ্ট্রদ্রোহের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই পুলিশের দায়িত্ব।
পুলিশের অপব্যবহার চায় না সরকার:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তি অন্যান্য বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীকেও অপব্যবহার করেছে। রাজনৈতিকভাবে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাদের দিয়ে জনগণের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালানো হয়েছে। অনেকে সে সময় অবৈধ নির্দেশ পালন করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান সরকার এমন পরিস্থিতি আর চায় না। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে আইজিপি পর্যন্ত পুলিশের সব সদস্যের কাছে সরকারের বার্তা একটাই—সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা এক মাসে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে, জনগণ তাদের পুনরায় গ্রহণ করবে না বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, এসব ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টরা এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি। সরকার তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিক ভিত্তি, জন-আকাঙ্ক্ষা, ব্যাপক জনপ্রত্যাশা ও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর গঠিত বর্তমান সরকারের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯২ পুলিশ সদস্য পেলেন পদক:
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজ, সেবায় বিশেষ অবদান, গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে চার ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), ১৮ জন বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা, ১৮ জন রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং ৪৪ জন রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পেয়েছেন। এর আগে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পদক দেওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়েছিল। পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে ৯২ সদস্যের পদকপ্রাপ্তির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।








