জাতিসংঘ সফরে ৩০ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

সময়: 8:55 am - September 26, 2026 |

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক আটটি কর্মসূচি, চারটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে মোট সাতটি বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান মাহদী আমিন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে একটি ভাষণ, সাইডলাইনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চারটি বক্তব্য, শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে বাংলাদেশের জাতীয় পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাহদী আমিন বলেন, এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক:

সফরের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর তিনি ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসা এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয় আলোচনায় আসে।

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের সঙ্গে বৈঠক:

সফরের শেষ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় সরকার। বিশেষ করে জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক:

নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার বারহাম সালেহসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়ন সহযোগী ও স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।

রোহিঙ্গা ও স্বাস্থ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান:

বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতেও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়েও আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৮০ কর্মসূচিতে সফরসঙ্গীরা:

মাহদী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা চার দিনে প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরার দাবি:

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, সফরের বিভিন্ন বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এম এম সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর