জাতিসংঘ সফর শেষে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী

সময়: 7:23 am - September 27, 2026 |

বিশেষ প্রতিনিধি:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের ইকে-৫৮২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বাসসকে নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে ফ্লাইটটি। )

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবিক বিষয়, টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন। ২৪ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএর সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ইউএনজিএ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ছিল। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতা, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।  এসব বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শান্তির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও গুরুত্ব:

সফরকালে অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্কে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় আলোচনায় আসে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ চুক্তি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে ছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান:

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও নিউইয়র্ক সফরে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি মোট আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং এর মধ্যে চারটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ‘প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স’, ‘ফার্স্ট স্পাউসেস’ ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান।  নিউইয়র্ক সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাতে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হন। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতি শেষে রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তাঁর পাঁচ দিনের জাতিসংঘ সফর শেষ হলো।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর