বদলী না ডিসেম্বর ঘিরে নাশকতার ছক? আওয়ামীলীগের (কার্যক্রম  নিষিদ্ধ) ক্যাডারদের বেছে বেছে স্পর্শকাতর জায়গায় পদায়ন।

সময়: 7:41 am - October 29, 2026 |

নিজস্ব প্রতিবেদক

পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রধান ও ভারতে পালিয়ে থাকা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষনা দিয়েছেন বহু আগেই। সে লক্ষে দেশের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানা মুখী নাশকতার ছক কষছে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুইজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন। এছাড়া নানা সময়ে বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত/অবসর প্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তা সরকার পতনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়েছেন। ১৩ আক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার ) দুপুরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষে সরাসরি লটারীর মাধ্যমে ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলী পদের কর্মকর্তাকে বদলী করা হয়েছে, তা আসলে প্রহসন ছাড়া আর কিছুই না। নানা ক্যাটাগরীতে বিভক্ত এই লটারী প্রক্রিয়ার দূর্নীতি নিয়ে বিস্তর সংবাদ প্রকাশের পরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছেনা।

বিভিন্ন সময়ে দুই সারোয়ার, অর্থাৎ অতিরিক্ত সচিব সারোয়ার আলম এবং  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) সারোয়ার জাহানের নাম এসব বিতর্কের সাথে বেশি মাত্রায় গণমাধ্যমে আসছে। বেছে বেছে এ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে ভালো গ্রেডিং এ আত্মসীকৃত আওয়ামীলীগ কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর জায়গায় দেয়া হয়েছে যাতে সংস্থা প্রধান দায় এড়াতে পারেন না। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী এক জনসভায় বলেছিলেন গুপ্ত আর সুপ্তরা এক হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীও ১৯৮৬ সালে পাতানো নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এমপি জুয়েল এর ভাতিজা, আবার তিনি চৌধুরী টাইটেলের এক জামায়েত নেতারও আত্মীয়। জাতীয় পার্টি যে আওয়ামীলীগের গৃহ পালিত দল তা ধ্রুবসত্য। তা তিনি কেন আওয়ামীলীগ পুনর্বাসনে পিছিয়ে থাকবেন।

ছবিতে আওয়ামীলীগের মিছিলে যোগদান কালে রেজা তৈমুর মালিক, যাকে ১৫/১০/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে জারিকৃত ১৪৬৭ স্মারকের বদলী আদেশে (ক্রমিক ২৪)রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ ঢাকায় বদলী করা হয়েছে। একই তারিখে ১৪৬৬ স্মারকে ১ ও ২২ নম্বর ক্রমিকে যথাক্রমে রাশেদ আহসানকে আজিমপুর গণপুর্ত বিভাগে ও ফারজান আনোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে বদলী করা হয়েছে। ছবিতে এই তিন কর্মকর্তা লালবৃত্ত চিহ্নিত। পেছনে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের ব্যানার সম্বলিত পোস্টার। এর মধ্যে রেজা তৈমুর মালিক প্রধান মন্ত্রীর বাসভবন রক্ষনাবেক্ষনের দ্বায়িত্বে থাকবেন। উল্লেখ্য তার পিতা চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ রেজাউল হক মালিক (মুকুল)

ডানের ছবিতে রেজা তৈমুর মালিক ও প্রকল্প বিভাগ ৩ ঢাকায় পোস্টিং প্রাপ্ত মিজানুর রহমান (কালো টি শার্ট পরিহিত ডান দিক থেকে তৃতীয়) , ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি ও সহ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর, আজীজুল হক রানার সেলফিতে, গ্রীন ভিউ গলফ রিসোর্টে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর সময়।

 

ডানের ছবিতে রেজা তৈমুর মালিক ও প্রকল্প বিভাগ ৩ ঢাকায় পোস্টিং প্রাপ্ত মিজানুর রহমান (কালো টি শার্ট পরিহিত ডান দিক থেকে তৃতীয়) , ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি ও সহ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর, আজীজুল হক রানার সেলফিতে, গ্রীন ভিউ গলফ রিসোর্টে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর সময়।

 

 

 

 

১৫/১০/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে জারিকৃত ১৪৬৭ স্মারকের বদলী আদেশে (ক্রমিক ৭) এ ঢাকা গণপুর্ত বিভাগ ৩ এ বদলীর আদেশ প্রাপ্ত ৩২ বিসিএস এর কর্মকর্তা কামরুল হাসান শেখ মুজিব বন্দনায় স্বরচিত কবিতা পোস্ট করতেন। সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার পুনর্বাসনে ২০০ মার্কের নৈবৃত্তিক প্রশ্নে বিসিএস ক্যাডার বনে যাওয়া এই কর্মকর্তা কেন বিগত সতেরো বছরে একুশে পদক পাননি সেটাই একটা প্রশ্ন।বেচারার সাথে অবিচার করা হয়েছে, আহা!  তিনি অবশ্য দুই বছর গোপালগঞ্জের দায়িত্বে থেকে (২০২২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) মেরামত কাজে ওটিএম( উম্মুক্ত দরপত্র) করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। আবার তার সেই ভিসুভিয়াসের অগ্নিবান, লাভা ইতাদি শরীরে লাগিয়েছেন।রথদেখা কলা বেচা একেই বলে। যা হোক এই প্রতীভাবান কবিকে ঢাকায় প্রাদ প্রদীপের আলোয় নিয়ে এসে গুনের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। এবার একটু শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী জি কে বলে, বেচারাকে একটা পদ্মশ্রী পদকের ব্যবস্থা করে দিলে হয় না।

 

আরেক প্রকৌশলী রাশেদ আহসান প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের আস্থা ভাজন। তিনি তখন ময়মনসিংহ জেলায়, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। ময়মনসিংহ জেলায়  মেরামত কাজের বাজেট ৪ কোটি থেকে ১২ কোটিতে উন্নীত হয় তখন, তার পরেও রাশেদ আরও ৫০ কোটি বকেয়া করে এসেছেন।সবাই বলেন এই টাকা প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের মদের ও মনোরঞ্জনের বিল দিতে  ব্যয় করেছেন।  পরে তার নগর গণপূর্ত বিভাগেও বদলী আদেশ হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, অগ্রীম বিলপ্রদান ও নিম্ন মানের কাজ করার জন্য দুদকে একাধিক তদন্ত চলমান। ময়মনসিংহ জেলা কারাগার ১২ বছরেও শেষ হয়নি। কেন্সার হাসপাতালও কাজ শেষ না করে প্রকল্প সমাপ্ত করা হয়েছে। এরকম অদক্ষ অসৎ কর্মকর্তাকেই আবার আজিমপুর, ঢাকায় পোস্টিং দেয়া হয়েছে।

৩৩ বিসিএস এর মাসুম বিল্লাহ দূর্নীতির বরপুত্র, আজীবন ঢাকায় চাকুরি করে নামমাত্র বরিশালে গিয়ে ৬ মাসের মধ্যে আবার ঢাকায় ঢুকে পড়েছেন। সাবেক এই ছাত্রলীগ ক্যাডারকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ ২ এ পদায়ন করা হয়েছে, যেখানে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় রয়েছে। দীর্ঘ সময় সিটি ডিভিশনে চাকুরি করা এই কর্মকর্তার সাথে গোপালগঞ্জ সিন্ডিকেটের গোপন আতাতা রয়েছে। প্ল্যানিং কমিশনের এসডি থাকায় বিকাশ-প্রকাশ গ্রুপের সাথেও গোপন যোগাযোগ রয়েছে। ২০২৪ এর জুলাই এর ছাত্র গণহত্যায় সরাসরি জড়িত থাকা ও অর্থের যোগান দাতা , হত্যা মামলার আসামীর আওতায় তাকবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, কী আজব দেশ! কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক এই কর্মকর্তার ঝালোকাঠির রাজাপুরে গ্রামের বাংলো বাড়িতে ৫ আগস্টের পর বিক্ষুব্ধ জনতা ভাংচুর চালায়, সেখানে কয়েক কোটি নগদ টাকা লুট হয়েছে মর্মে জানা যায়। এলাকা বাসী জানান তার চাকুরিতে প্রবেশের আগে ভাঙ্গা টিনের ঘর ছিলো। আরেক দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মইনুল ইসলামকে সিডিউল অব রেটস এর দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি থেকে কালেকশনের ধানদা করেছিলেন প্রধান প্রকৌশলী।খালেক সত্যিই জাদু জানেন, তার জাদুর দৈত্য লটারীরে মইনুলকে ঠিকই শিডিউল অব রেটস (আর এন ডি)তে উঠিয়ে দিয়েছে। এই মইনুল কিংডম বিল্ডার্সের কর্নধার নূসরাত হোসেনের ব্যবসায়িক পার্টনার। তেজগাঁও হকার্স মার্কেটে অবৈধ দোকান তুলতে দিয়ে টাকা কামানোর অভিযোগে তদন্ত কমিটি অবৈধ দোকান ভাঙতে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করলেও তিনি তা না করে দিব্যি রেখে দিয়েছেন।  “গণপূর্তের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ শাখা গুলোতে ফ্যাসিস্টদের সাথে সম্পর্ক আছে এমন কর্মকর্তাদের পোস্টিং দেয়া অত্যন্ত বিপদজনক মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাসভবন, ডিজিএফ আই প্রধানের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যদি কেনো আওয়ামী পন্থী আমলার হাতে থাকে তা সরকারের জন্য মোটেও মঙ্গলজনক না বরং এই প্রক্রিয়া ভয়ঙ্কর রুপ নিতে পারে। এখনি সরকারকে এবিষয়ে গভীর মনোযগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।রাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্য ছাড়া কারো জীবনের হুমকি আছে বলে আমি মনে করি না। একমাত্র তারেক রহমান ছাড়া কারো কিছু হবে না। কারণ এসব কর্মকর্তাদের যারা পোস্টিং দিয়েছেন তারা তো জেনে শুনেই দিয়েছেন। তারা যখন পোস্টিং দিয়েছেন তখন আপনাকে মনে করতে হবে তাদের সাথে আওয়ামী লীগের সক্ষ্যতা আছে, বন্ধুত্ব আছে। আর বন্ধু তো বন্ধুর কখনো জীবন কেঁড়ে নিবে না। তাই আমি মনে করি তারেক রহমান ছাড়া কারো জীবনের হুমকি নেই এবং এসব পদায়ন ও কর্মকাণ্ড পরিকল্পিত।(তথ্য সুত্রঃ ডেস্ক রিপোর্ট, দৈনিক ইনকিলাব,অনলাইন ২৭/১০/২০২৬ খ্রিঃ)”।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর