এক-দুই বিষয়ে ফেল করা এইচএসসি শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার পরিকল্পনা সরকারের
মানব কথা ডেস্ক:
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে যেন একটি বছর নষ্ট না হয় এবং উচ্চশিক্ষা বা বিকল্প কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাহদী আমিন বলেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করার বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো, কোনো শিক্ষার্থীর যেন একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়। পাশাপাশি তারা যেন পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে পারে, উচ্চশিক্ষায় যেতে পারে কিংবা বিকল্প কোনো শিক্ষাপথ বেছে নিতে পারে। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চায়। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব শিক্ষার্থী এইচএসসি পাস করেছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি, তাদের জন্যও বিকল্প সুযোগ তৈরির কথা জানান শিক্ষা উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, কারিগরি শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা কিংবা বিকল্প পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন পথ তৈরি করতে চায় সরকার। সবার উচ্চশিক্ষা গ্রহণ জরুরি নয় উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শিক্ষার্থীর মেধা, সৃজনশীলতা ও আগ্রহ অনুযায়ী পছন্দের বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বা মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পায়, সরকার তা চায়। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত ১০ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন পাসের হার।









