মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হও যেন পূণ্যলাভে পূণ্যের পরশ পাও

সত্য সুন্দরের সন্ধানে- রাজু আহমেদ মোবারক
1)
“What is presence? We convince by our presence.” Walt Whitman
আমরা জীবনে পূণ্যার্জন করে চলতে চাই। এই পূণ্যার্জনে আমরা যেন পূণ্যলাভে পূণ্যাত্নার মানুষও হই। আমার-আপনার জীবনে পূণ্যের অনুশীলনে পাপ, দুর্নীতি, অপরাধ, নিষ্ঠুরতা, হত্যাযজ্ঞ এসব যেন অন্তর থেকে বিদায় করে রাখি। কারণ এসবের যে কোন একটা নির্দিষ্ট নিষ্ঠুর উপাদান আমাদের কারো অন্তরে উদিত রেখে পূণ্যের কাজ করা কি সম্ভব? পূণ্যলাভে পূণ্যের কাজ করা একমাত্র পবিত্র প্রাণের দ্বারাই সম্ভব যদি সত্য সুন্দরের সন্ধানে জীবনের পথে থেকে আমরা দৃঢ়প্রত্যয়ী মানুষ হয়ে থাকি। আমরা আমাদের প্রাণের পরশে থেকে থেকে জীবনের সন্ধানে থাকি হৃদয়ের সৌন্দর্যের স্বরূপকে আলিঙ্গন করে তবেই আমরা সবাই পরস্পরের ভালোবাসার প্রবল টানে উজ্জীবিত প্রাণে ভালোবেসে যেতে পারি, পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। মানব জাতি এই পৃথিবীতে যে দেশেই বাস করুক না কেন, উপযুক্ত মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার জন্য নারীপুরুষ সকলকেই শিক্ষিত মানুষ হতে হয়। নারীপুরুষ সকল মানুষ যখন পরস্পর পরস্পরের মাঝে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করে চলেন প্রত্যেকেরই হৃদয়ের মাঝে প্রাণের সৌন্দর্য্যের নান্দনিকতা ফুঁটে উঠে। নারী-পুরুষ সবাইকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মান-সন্মান নিয়ে উপযুক্ত মানুষ হয়ে টিকে থেকে বাঁচার জন্য পাশাপাশি চিন্তার মানুষ হতে হয়, অন্তরের চেতনা থেকে হিংসা-বিদ্ধেষের ভাবের ভাবনাকে তিরস্কার করে। নারী-পুরুষ সবাই যদি একই রাষ্ট্রে বাস করে একই যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ না হয়ে উঠেন, তাদের পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সর্ব ক্ষেত্রেই ভারসাম্যতা রক্ষা ক্ষেত্রটিও দুর্বল হতে থেকে। যে কোন রাষ্ট্রের সকল মানুষকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সাথে মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিতও হতে হয়। নতুবা কোন
রাষ্ট্রের মানুষই এই প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে টিকে থাকাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। যে দেশের যে জাতিতেই হোক, নারী এবং পুরুষের চলমান জীবন যদি সমান মর্যাদার গতিশীল জীবন না হয়, সেই দেশের সেই জাতির ভেতরের শক্তি কখনোই শক্তিমান হতে পারে না। সময়ের আবর্তে সেই জাতি নিজের ঘরেই অবুঝ শিশুর মতোই জানা-অজানা অসুখের রোগের দ্বারাই মৃত্যু বরণ করেন। সেই জাতির মানুষের মাঝে সমানুপাতিক মানসিক চিন্তার অভাব এবং জাতির মাঝে পরস্পর পরস্পরে প্রাণের সম্পর্কের দৈন্যতার অভাবের কারণে নিজের দেশের মানুষকে আপন করে নেওয়ার মনন শক্তির বিকাশ অন্তরে বিকশিত হয়ে অন্তরীণ হয় না। ফলে নিজেদের মধ্যে দেশের মানুষের জন্য যে নারী ও পুরুষের মাঝে প্রাণের বন্ধন তৈরি হওয়ার কথা, তা না হয়ে পরস্পরের মাঝে বিদ্ধেষী মানসিকতার উদ্রেক পরস্পরের মাঝেই রাগ অভিমানসহ হতাশাচ্ছন্নতা বিরাজমান হতে থেকে প্রচন্ডভাবে। তাতে নিজেদের পরিবারে ও রাষ্ট্রে নিজেরাই নিজেদের শত্রু হয়ে যায়
সামান্য কারণেই। পৃথিবীর অনেক দেশেই অনেক পুরুষের মানসিকতার মাঝে নারীদেরকে দমন পীড়ণের মাঝে রাখার কতই না চেষ্টা চলছে।
পৃথিবীতে অনেক অদৃষ্টিনন্দিত পুরুষ মানুষই আছেন, যারা যথেষ্ট পরিমাণে নারী বিদ্ধেষী। তারা অনেকেই মনে করেন যে, নারীরা যদি পুরুষদের মতো মন মানসিকতা উদয়ন করে চলতে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রে, নারীদের উন্নতির বিকাশ ঘটতে থাকবে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে।
। তারা কিছুতেই নারীদের শিক্ষার্জনকে মূল্যবান মনে করতে পারেন না। তারা নারীপুরুষ পৃথিবীতে সমান্তরালে এগিয়ে চলে যোগ্য মানুষে স্বীকৃতি পেয়ে থাকুন, তা তারা মোটেই কামনা করতে পারেন না। তারা এতটাই তাদের অন্তরের চরিত্র নিষ্ঠুর যে নারীদের দমন করে চলাই যেন তাদের জন্মের স্বার্থকতা। তারা তাদের অন্তরের চরিত্রে ক্ষুদ্রতায় যথেষ্টই পরিপূর্ণ। নারীদেরকে দমন করে বক্সবন্দি করে রাখতে পারাই যেন অনেক পুরুষদের কাজ। এই পরস্পর নির্ভরশীল পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য নারী পুরুষের সমান গতিতে চলে উপযুক্ত মর্যাদার মানুষ হওয়া ছাড়া কোনই বিকল্প নেই। নারী ও পুরুষ সবাইকেই শ্রদ্ধার সৌন্দর্যে ফুঁটে উঠে মনুষ্যত্বের বিকাশের শক্তিতে জীবন প্রতিষ্ঠার সংকল্প প্রয়োজন যা পরস্পরের মাঝে প্রাণের সঞ্চার হয়। তোমরা
যতদিন বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অন্তরে বিবেকের সৌন্দর্যে ফুঁটে না উঠবে, নারী ও পুরুষের মর্যাদার স্বরূপে যে মানুষের মনুষ্যত্বের বিকাশ হয়, তা ক্ষুদ্র হৃদয়ের পুরুষ মানুষরা সেই চেতনার শক্তি তাদের অন্তরে উদিত হয়নি বলেই তারা নারী বিদ্ধেষী মানসিকতা সারাক্ষণই তাদের অন্তরে নাড়া দিতে থাকে। তোমরা যারা নারীদের পর্দা প্রথার নাম করে নারীদের সমস্ত অর্জনের পথে বাঁধা হয়ে তাদের পথে সারাক্ষণই দন্ডায়মান থাকো, মানুষের যদি পরকালের বেহেস্ত ও দোযখ দেখার সুযোগ থাকত তাহলে মানুষ দেখতে পেতেন নির্যাতিত মানুষগুলোই জান্নাতে পবিত্র স্হানেই আছেন। তোমরা যারা নারীদের দমন করে তাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে এই সুন্দর পৃথিবীর সৌন্দর্য অনুভব করার সুযোগ দাওনি। তোমরা যে সমস্ত নারীদেরকে তাদের সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখো ধর্মান্ধতার নীতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে,এই নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষকে যদি অন্য মানুষেরা দেখতে পেত পরকালের জীবনে, তাহলে তারা ঠিকই দেখতে পেত এই দুঃখিত মানুষগুলো জান্নাতুল ফেরদৌসের মনোরম স্হানেই আছেন। নারী হোক আর পুরুষই হোক মানুষের ক্ষতিসাধণ হয়, এমন যে কোন কাজ করে যদি আমাদের মৃত্যু হয়, জান্নাতের দরজা আমাদের আল্লাহ কারো জন্য খুলবেন বলে আমাদের কারোরই মনে করা সমীচীন নয়। এই পৃথিবীর কল্যাণ সাধিত হয় এমন কাজই যেন আমরা করি পরস্পর পরস্পরের জন্য সত্য পথটি ধরে, হোক তারা নারী বা পুরুষ। কারণ, যতদিন আমরা সকলে সকলের জন্য না হচ্ছি, আমরা কখনোই ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের চিন্তার জগতে দাবী করতে পারি না। মানুষকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে সাথে মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হতেই হয়, কারণ মানুষের বিবেকই মনুষ্যত্বের বিকাশের একমাত্র মননের মনোরম শক্তি। মানুষের অন্তর থেকে যদি মননের বিকাশের ব্যাপ্তির শক্তি উৎকর্ষতার সহিত বিকাশ লাভ না করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জন করার পরও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যায় না, কারণ কিছু কিছু মানুষের দুষ্ট মন সারাক্ষণই নষ্টতার দিকেই মনোনিবেশ করতে থাকে। পাপ, অপরাধ ও লোভের কর্ম দিয়ে যে অন্তরে উগ্রতা সৃষ্টি হয়, সেই উগ্র মানুষগুলোর অন্তরের উগ্রতার শান্তি পাওয়ার জন্য যা খুশি তাই করে থাকেন। কারণ উগ্র মানুষের উগ্রতায় অন্তরেও নগ্ন শান্তি আছে, যা তাদের অন্তরকে
বিভোর করে রাখে নগ্ন শান্তি পদান করে। এই পৃথিবীর কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা উগ্রতা দিয়ে নগ্ন প্রাণ তৈরি করে শান্তি পেতে চান। যা তাদের অন্তরেরই নগ্ন শান্তি। শেষে সমস্ত নগ্ন শান্তি একত্রিত হয়ে শেষবেলা যে তারা জীবনে শাস্তিটা পায় এযে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। আমরা শেষ বয়সে শান্তির প্রত্যাশা করে যেন শাস্তির জীবন না পাই, সেইভাবেই জীবনকে যেন চালিত করি, কারণ সব বয়সে সব ধরনের ব্যথা-বেদনা সহ্য করা যায় না। সব কিছুরই সহ্যের যেমন সীমা থাকে। ব্যথা সহ্য করারও বয়স লাগে। মানুষের যদি মন ও বিবেকের শিক্ষার সমৃদ্ধতার অভাব থাকে, সেই মানুষগুলোকে মনুষ্যত্বের বিকাশে প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ বলা যায় না।
2)
“Presence is confidence without arrogance.”–Rohan, Australia
এইও তো আমরা দেখি, আমরা সবাই যেন সবাইকে সন্দেহ করে চলি। সবাই যদি সবাইকে সন্দেহ করে চলি, মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার প্রাণ তৈরি করি কেমন করে? পূণ্যলোভে পূণ্যের পরশ পেতে হলে অন্তরে পূণ্যের নেশাই থাকতে হবে। যে কোন অর্জনই নেশা ব্যতীত সম্পন্ন হয় না। যারা চুরি-দুর্নীতি-সুদ-ঘুষ এসব নগ্ন কাজগুলো করে জীবন চলমান রাখেন, তারা তাদের অন্তরের নগ্ন নেশাতে চলেন বলেই এই জঘন্য কাজগুলো করেন। তোমরা যারা তাদের থেকে আলাদা হয়ে সত্যাশ্রিত মানুষ হয়ে বিবেকের সৌন্দর্যে বড় মনের মানুষ হয়েছো, তোমাদেরকে পূণ্যাত্নার মানুষ হয়েই পূণ্যলাভ করতে হবে। এই জন্য চুরি-দুর্নীতির নেশায় নয়, তোমরা পূণ্যলাভের পূণ্য নেশায় মত্ত হও। তাতে তোমাদের জীবনের জীবনাস্বাদও পাবে। সত্যকে হৃদয়ে ধরে সত্য পথে চলো। এই সত্য পথই আমাদের সকলের পরকালের সর্বোচ্চ মর্যাদার পথ। বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত যেমন হতে হয়, সত্য সুন্দরের সন্ধানেও থাকতে হয়। পাপে যেমন সত্য পথে থাকার সত্যের জৌলসকে নষ্ট করে, পূণ্যলাভের পূণ্য পথে থাকার জন্য দৃঢ় মনের শক্তি লাগে। সেই পূণ্য পথে পূণ্যের পরশ পেতে হলে তোমার-আমার সকলকেই পূণ্যাত্নার রূপ-চরিত্র দরকার। এই পূণ্যাত্নার মানুষ যারা, তারা নিজেরাই নিজেদের অন্তরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে অন্তরঙ্গ মানুষে পরিণত হয়। আমরা মানুষ হিসেবে বিশ্বাসের মনোরম প্রাণ থেকেও যেন সরে যাচ্ছি বলে মনে হয়।
অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাসের প্রাণ থেকে বিচ্ছুত ও বিলুপ্ত হয়ে পরস্পর পরস্পরের মাঝে সন্দেহের মাত্রা প্রবলাকার ধারণ করে চলেন। ফলে যে যেখানেই জীবনের জন্য স্রোত বদলে নানা স্হানে চাকরি বা ব্যবসা করার সুযোগ পেলেও, বেশ তাড়াতাড়ি যেন আখের গোছানোর মতো সর্বস্ব গ্রাস করার মানসিকতা উদ্রেক করে অর্থোপার্জন করার নষ্ট প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। আমরা যদি সত্য সুন্দরের সন্ধানে চলার জন্য মনস্হির না করি, আমরা কখনোই মনন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারি না, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও। যেমন, পাপ করে তুমি-আমি অন্তরে পাপী হয়ে গেলে পূণ্যাশ্রমে আমরা যতই ব্রতী থাকি না কেন পাপেরই জয় হয়, পূণ্যের জয় নয়, কারণ অসুন্দরের ছায়া যখন পড়ে সুন্দরের উপর, এই সুন্দরের যে পতন হয় পাপিষ্ঠদের যাতনার জ্বালার ভারে। আমরা যদি আমাদের মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত না হচ্ছি, আমাদের নিজেদের অন্তরকে নিয়ন্ত্রণ করে মানবিক চিত্তের মানুষ হতে পারব না। আমরা যদি কোন কিছু বলার মতোনা বলি, শোনার মতো না শুনি, দেখার মত না দেখি তখন মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য অন্তরের বিশালত্বের ব্যাপ্তির যে উৎকর্ষতার প্রয়োজন, সেই প্রয়োজন সম্পর্কে পরিমিত জ্ঞানেরও অভাব দেখা দেয়। কোন কিছু পাওয়ার জন্য মনের মাঝে শুধু পাওয়ার ইচ্ছা থাকলেই চলে না। এই ইচ্ছাশক্তির সাথে যোগ্যতা শক্তিরও বিশেষ প্রয়োজন। তুমি যদি তোমার মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হতেই চাও তবে যে তোমার মনটাকে সারাকালই উপলব্ধি করে চলতে হবে। তুমি তোমার নিজের মনের উপর যদি সম্যক উপলব্ধি করে চলতে না পারো, তোমার এই মনই গলায় রশি দিয়ে ঘুরাবে যা খুশি তা করানোর জন্য এখানে-সেখানে, নানা স্হানে। তোমার-আমার এই মন যাতে আমাদেরকে গলায় রশি দিয়ে যেখানে-সেখানে ঘুরিয়ে সমাজে, রাষ্ট্রে ও পৃথিবীতে আমাদের অন্তরের মনুষ্যত্বের মর্যাদা নষ্ট হতে না পারে, সেই জন্য আমরা নিজেরাই যেন আমাদের নিজেদের অন্তরে সন্মানিত মানুষ হই, কারণ তোমার নিজের অন্তরের ভেতর যদি অন্তরের সন্মান না থাকে, এই অন্তরই সন্মানহীনতার কারণে যা খুশি তা-ই করে বসে যা অত্যন্ত মানহানিকর। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হলেও উৎকৃষ্ট মানুষ হওয়ার জন্য যদি মনন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত না হই, মনের মধ্যে সহজেই পাপ
ও অপরাধ করার প্রবনতা জন্ম হতে পারে। তবে গোপনে যতই আমরা পাপ-অপরাধ করে থাকি না কেন, আমাদের শরীরের বৈশিষ্ট্যের রুপকে যা সারাক্ষণ পাগলের মতো আমাদের নিজ পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে ব্যস্ত রাখে, তা কিন্তু আমরা কখনোই গোপন করে রাখতে পারি না, কারণ মানুষ কোন কাজ গোপনেই করুক বা প্রকাশ্যেই করুক তা তার রুপের চরিত্রের বৈশিষ্ট্যের কারণে ধরা পড়েই। তুমি যদি পাপ করো, তোমাকে তো অবশ্যই পাপী হয়েই মরতে হবে। তুমি যদি পূণ্যের কাজ করো, তুমি পূণ্যাত্নার পূণ্যের মানুষ হয়েই পূণ্যের পরশেই মরবে। আমরা যা করি গোপনে মানুষের ক্ষতিসাধণ করে, তা মানুষের কাছে অধিকাংশ সময়েই মাত্র সামান্যই ধরা পড়ে। আর আল্লাহর কাছে সেই কর্মের পুরোটাই সারাকাল ধরা পড়ে। সৃষ্টিকর্তা যে মানুষসহ কত কিছুই সৃষ্টি করেছেন তাঁর সৃষ্টির অসংখ্য সৃষ্টির নাম যেমন আমরা জানি না, তাঁর সৃষ্টির অনেক কিছুই আমরা দেখিও নাই। আল্লাহ যে আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তা যে আমাদের জন্য আল্লাহ্র বিশেষ বড় মর্যাদার দান। তাঁর এই মর্যাদার দানকে যেন কিছুতেই আমরা অমর্যাদা না করি। তিনি যে আমাদের দেহ-মন দান করেছেন, তাঁর এই দানের অমর্যাদার করে আমরা যতভাবেই জীবন চালিত রাখি না কেন, এই অমর্যাদার ক্ষতিপূরণ আমাদেরকে দিতেই হবে। আমরা মানুষ হিসেবে যদি নিজেদেরকে মর্যাদা দেওয়ার অভ্যেস না করে চলি, হঠাৎ করে যেমন নিজেকে মর্যাদা দেওয়ার অভ্যেসের প্রাণ পাওয়া যায় না, ঠিক তেমনই অন্য মানুষকেও সন্মান ও মর্যাদা দেওয়ার প্রাণ হঠাৎ করে প্রাণ থেকে আসে না। অভ্যেসের প্রয়োজন হয়। কারণ, যা আমার নিজের মধ্যে নেই বা থাকে না, তা আমি অন্যকে দিতে পারব না। আমার-আপনার মন যদি মূর্খ থাকে, সেই মূর্খ মন তো মূর্খতার কারণে কিছুই বুঝতে পারে না।
এইসব মূর্খ মনের মানুষ যারা জীবনে কি করা উচিত বা অনুচিত তাও ঠিক মতো বুঝতেই চান না। এই সত্যিকার সত্যটি আমাদের সকলের মনকেই রশি দিয়ে বেঁধে হলেও মনে রাখা উচিত যে, নারীপুরুষের সম্মিলিত অগ্রগতি ব্যাহত করে দেশ ও জাতির কল্যাণসাধন করার কোনই বিকল্প নেই। আমরা পূণ্যাশ্রমের আশায় পূণ্যলাভে যতই আশাবাদী হয়ে পূণ্যালয়ে যাই না কেন, পূণ্যফল কখনোই আমাদের কপালে জুটবে না মানুষের ক্ষতিসাধন করি। মন ও বিবেকের শিক্ষায়
শিক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত পূণ্য লাভে পূণ্যের পরশ পাওয়া যায় না, কারণ সত্য সুন্দরের সন্ধানের পথই পূণ্যলাভের পূণ্যাত্নার পথ।
3)
“Presence is when all your senses agree on one thing at the same time.”— Majid, United Arab Emirates
মানুষ যদি সত্য সুন্দরের পথে জীবনকে পরিচালিত না করেন, সেই মানুষেরা কখনোই মনন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেন না,
কারণ মন ও বিবেকের সৃষ্টিই হচ্ছে সত্য ও পবিত্র স্হান যা মানুষের অন্তরাত্না। মনে রাখাই ভালো যে, পাপ-অপরাধ ও নিষ্ঠুরতার সাথে যারাই জড়িত থাকবে, তারা কখনোই মনন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ নয়। এরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, রাষ্ট্রের বড় কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাদের নেতাও হয়, তাদের কাছে মানুষ নিরাপদ নয়। এদের অনেককেই তো মানুষ এড়িয়ে চলতে পারেন না। তবে তুমি যদি তোমার চিন্তার উৎকর্ষতাকে তোমার অন্তর থেকে উপলব্ধি করতে পারো, এই দুষ্ট মানুষের দুষ্টামি সম্পর্কে সচেতন থেকে বুঝেশুনে কাজ করার মনের শক্তিটাও অন্তত পাবে। এই পৃথিবীর নিষ্ঠুর ও চরিত্রহীন মানুষ কি কখনোই ভালো ও বিবেকের চোখ খুলে মানুষের দিকে তাকাতে শিখেছেন বা শিখেন? এই মানুষগুলো সমাজ, রাষ্ট্র ও পৃথিবীর জন্য যে পথ তৈরি করেছেন বা করেন সেই পথে মানুষ শান্তি ও তৃপ্তি এসবের কিছুই পাননি। এদের পথে যারাই উঠেছেন ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে, তারা সকলেই যাতনার তাপে তাপিত হয়ে চলছেন সেই আগের পুরাকাল থেকেই। কারণ, তোমরা যদি তোমাদের বিবেকের চোখ খুলে নিজের দেশ ও বিশ্বের নানা দেশের দিকে ভালো করে তাকাও দেখতে পাবে, আগুনে ঘি দিলে যেমন বেশিই জ্বলে উঠে তা-ই করে রেখেছেন বা রাখেন। মানুষ কেন মানুষ হয় না? এত হত্যাযজ্ঞ! এত নিষ্ঠুরতা! এত দুর্নীতি! এত দখলদারী! এত বোমাবাজি! এই জঘন্য কাজগুলো করে যে মানুষের সর্বনাশ তারা করে, তাতে তাদের কোনই দয়া মায়া হয় না মানুষের জন্য? যারাই খারাপ কাজে বেশিই নিজেদেরকে ভোগের মধ্যে রাখেন, তাদের নেশা ততই বেশি বাড়ে খারাপ কাজে, কারণ তাদের মন ও বিবেক তখন তাদের অন্তরে মৃত থাকে। এই মৃত মানুষের কাছে কিছুই আশা করা যায় না! একটি বিষয়
এতটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, এই নিষ্ঠুর ও জঘন্য মানুষগুলো সকলেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ শিক্ষিত। কিন্তু তারা বিবেক ও মনুষ্যত্বের বিকাশে শিক্ষিত মানুষ নয়। তাদের নিষ্ঠুরতায় পৃথিবী কম্পমান থাকে। আমরা তো সব সময়ই দেখে এসেছি, জ্ঞানের চর্চায় জ্ঞানের বৃদ্ধি হয়। পাপের চর্চায় পাপের নেশায় পাপের বৃদ্ধি হয়। পূণ্যের চর্চায় পূণ্যও বাড়ে যদি তুমি-আমি অপাপবিদ্ধ মানুষ হয়ে পূণ্য আচরণের চর্চা করি। কিন্তু তুমি যদি পূণ্যের চর্চা করতে গিয়ে হৃদয়হীন হয়ে ভন্ডামির আশ্রয়ে নেশায় মেতে উঠ পূণ্যের আশায়, তখন ফল নয় তা যেন সর্বত্রই পূণ্যতাণ্ডবের মিলনমেলা। মানুষের অন্তরে যদি পূণ্য তান্ডবের নগ্নতার শক্তি বাড়তে থাকে, হাজার হাজার বার পূণ্যনদীতে গিয়ে পূণ্যনদীর পূণ্যস্নানেও পূণ্য প্রাণের জন্ম হবে না। তোমরা জীবনে যত কিছুই করো, পূণ্যের কাজে ভন্ডামিটূকু করিও না। তাতে তোমার পূণ্য হ্রাস হয়ে শূন্যতায় পরিণত হয়ে যাবে। যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি বৃদ্ধির সাথে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন, তারা মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আবার কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা এই একই স্হানে একই দেশে, তারা পাশেই চলেন, পাশেই হাঁটেন। তাদের মাঝে এমন সব মানুষকে দেখি নিছক ভোগের মন্ত্র দিয়ে থাকেন সাথেরই সংগী সাথীদের। এসব ভোগের মন্ত্র যারা দিয়ে থাকেন, তাদের অনেককেই
যখন দেখি অপরাধ কর্মের শাস্তিটুকু তাদের জীবদ্দশায়ই পেয়ে যাচ্ছেন, তখন বড়ই কষ্ট লাগে এই ভেবে যে, শিক্ষিত হয়েছেন ঠিকই কিন্তু মানুষ হতে শিখেননি। এমন কি আপনারা বিবেক ও মনের শিক্ষায় শিক্ষিত হননি। এই পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষেরই তাদের অন্তরের চেতনার
মাধ্যমেই একটি নিজস্ব সত্তা গড়ে উঠে। যা আপনা থেকে আপন গতিতে চলতে পারে না সত্তার বিকাশ নিয়ে। একে প্রচন্ড চাপ প্রয়োগে আমাদের চালিত জীবনে আনয়ন করতে হয়। এই সত্তাটিকে প্রচন্ড চাপ মেরে আপনি-আমি যদি আমাদের আসল সত্তাটি বাহিরের মানুষের কাছে প্রতিবিম্বিত করে চলতে চাই তবে বাহিরের ভোগ ও লালসার জীবন থেকে যেন সরে এসে মূল সত্তার সাথে নিভীর সম্পর্ক স্থাপিত করে চলি। যা আমাদের বিবেক ও মনুষত্ব। তুমি যদি তোমার অন্তরের পবিত্রতা দিয়ে মনুষত্বের বিকাশের শক্তিতে তোমার নিজের অন্তরে তুমি ফুঁটে উঠতে না পারো তুমি কখনোই পূণ্যলাভের পূণ্যের কাজ করতে পারবে
না। যা তোমার-আমার পূণ্যের ঝুলিতে জমা হবে। যিনি মানুষকে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার বিতরণ করবেন, যা আমাদের পাপ ও পূণ্যের। এই পাপ-পূণ্যের মিশেলে যে আমাদের জীবন গঠিত হয়, এরই মাঝে যেটার আধিক্যতা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও পৃথিবীর উপর বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে বা করে সেটার পুরস্কারই আমাদের সকলের ভাগ্যে মিলে। তুমি যদি তোমার কাজের ফল দ্বারা সমগ্র বিশ্ব-সংসার সংঘাতময় করে মর এবং তোমার মতো করে আরো শতশত-লাখ-কোটি মানুষকে লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে চলার ব্যবস্থা করে রেখে যাও, তুমিই আমাদেরকে বলে যাও সৃষ্টিকর্তা তুমিসহ এই জাতীয় মানুষগুলোর জন্য কিই বা পুরস্কার হতে পারে? মানুষের পাপ পূণ্যের হিসেব কিন্তু তার তার মতো করে তার কাছেই আছে। তুমি তোমার পূণ্যলোভে পূণ্যের কাজটি করে যাও, তুমি সৃষ্টিকর্তার কাছে পূণ্যফলের পূণ্যলাভই করবে। তাই পূণ্যলাভে পূণ্যের পরশ পাওয়ার জন্য মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যেন আমাদের জীবন চালিত রাখি। যাতে মানব জাতির কোনই ক্ষতিসাধন না হয়। যারাই মানুষের ক্ষতিসাধন করে মরবে, তাদের সমস্ত পূণ্যই অপূণ্যেতে পরিণত হয়ে শূন্যতে চলে যাবে যা রোধ করার শক্তি কারো নেই। আমরা মানুষ হিসেবে যেন আমাদের মনটাকে চলনসই করে রাখি, যাতে পূণ্যের কাজেও ভন্ডামির চরিত্রের রুপটা দেখাতে না পারি।
4)
“Presence is the inner self showing up.”— PADI, SPAIN
তোমার দ্বারা তোমার চালিত জীবনে জীবন-জীবিকা পরিচালিত করতে গিয়ে যদি মানুষের জীবনকে বিপন্ন ও ছন্নছাড়া করে তোমার মৃত্যু হয়, তোমার জীবনের পূণ্যালয়ের সমস্ত পূণ্যাশ্রমই পূণ্যহারা হবে। আমরা যদি সত্য সুন্দরের সন্ধানে থেকে সত্যাশ্রয়ী মানুষ হই তবেই অতি সাধনালব্ধ জীবন চালিত করার কারণে হয় তো পূণ্যলাভের পথে যেতে পারি, যদি বিবেকের সৌন্দর্যে আমাদের নিজেদের অন্তরে আমরা ফুঁটে উঠি। এই বিবেকের সৌন্দর্যে ফুঁটে উঠার জন্য তোমার নিজের অন্তরেও অন্তর্ভুক্তি করতে হবে প্রবল প্রাণ শক্তির উৎস। যা তোমাকে তোমার পাশের লোভাতুর মানুষেরা দীর্ঘ সাধনার মন ও হৃদয়কে হরণ করতে না পারে। তোমার চলতে পথে যাদের কৃতকর্মের কারণে তোমাকে
বিচ্ছুতির মানুষে পরিণত করে তোমার অমূল্য সম্পদ বিশ্বাস নষ্ট করে
ফেলে, তুমি তাদের পরশে গিয়ে তোমার জীবনের মূলধন যত কিছুই আছে, তা তুমি নষ্ট করিও না। এদের তোমরা সামান্য হলেও এড়িয়ে চল। যাদেরকে তোমার অন্তর দিয়ে ভালোবেসে তোমার কাছে বিশ্বাস যোগ্য মানুষ বলে মনে হয়েছে, তাদেরকে তোমার প্রাণের পরশে রেখো সারাটাকাল। কোন দিন দেখা হলে বুকে জড়িয়ে ধরে তুমি তাদেরকে বলিও তোমরা এখন কেমন আছ? শুধুই করমর্দণ নয়। বুকে জড়িয়ে অতীতের স্নৃতি-সৌন্দর্যের কাছে যাও। যা তোমাদেরকে প্রাণ রসে মুগ্ধিত প্রাণের মানুষ করে রেখেছিল তোমাদের হৃদয়ের অন্তস্তলে। আর যদি তাদের সাথে দ্বিতীয় বার দেখাটি না হয়! সে যতদিন বেঁচে থাকবে তোমাদের পরস্পর পরস্পরের বুকে বুক মিলিয়ে কোলাকুলির মধুর স্নৃতির ভালোলাগার অনুভবটি ঠিক আগের মতোই তোমাকে বন্ধুময় করে তুলবে ঐ যে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মনোরম প্রাণে কথা বলেছিলে! মানুষের জীবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধির সাথে জীবন বোধের অনুভূতির জন্য জীবনাস্বাদ প্রয়োজন। জীবনকে যদি নানাভাবে, নানা স্বাদের বৈশিষ্ট্যের রুপ দিয়ে আমাদের অন্তরে ও হৃদয়ে অনুভব করতে না পারি তাহলে আমাদের জীবনকে জীবনের মতো উপজীব্য করে বুঝতে পারব না। তুমি যদি সত্য সুন্দরের সন্ধানে সত্যের সৌন্দর্য্যের প্রবাহ থেকে সরে যাও, জীবনের মূল সৌন্দর্য থেকে সহজেই অন্যত্র চলে যাবে, কারণ তুমি তোমার বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত নয়। আমরা যদি পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে মানুষ হিসেবে মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়ে বাঁচতে চাই, আমাদের মন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সাথে সাথে আমাদেরকে অন্তরে সংযমীও হতে হবে। নতুবা আমরা চাইলেও
পূণ্যলাভের পূণ্য পথেও অংশ গ্রহণ করতে পারব না অন্তরে সংযমী না থাকার কারণে। শুধুই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও আমরা ভালো মানুষ হতে পারি না যদি বিবেক ও মনুষ্যত্বের বিকাশ আমাদের অন্তরে অন্তরিত করে না রাখি। আমরা যদি অন্তরে সংযমী মানুষ না হতে পারি, আমাদের অন্তরে ভোগের ক্ষুধা বৃদ্ধি করে ভোগের নেশায় ও ক্ষুধার্তে এক ধরনের কেমন যেন আলাদা চরিত্রের রুপ দিয়ে নিষ্ঠুর ও মায়া শূন্য মানুষে পরিণত করে। ফলে নিজেদের অন্তরকে নিষ্ঠুরতা গ্রাস করে ভীষণ এক অতৃপ্তির চেতনা অন্তরে তীব্রভাবেই উদিত করে। মানুষ যদি বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়, তাদের অন্তরে মনুষ্যত্বের মনোরম সৌন্দর্যটি মন থেকে কোথায়
চলে যায় তা তারা টেরই পায় না, কারণ পূণ্য আহরণে যে পূণ্যাত্নার দরকার সেই পূণ্যের স্বরূপ যদি অন্তর থেকে দূরে চলে যায়, সেই পূণ্যলোভ অন্তরে কখনোই উদিত হয় না। মানুষের জীবনে যা কিছু মহৎ ও পবিত্র তা কখনোই অশ্রদ্ধায় তাচ্ছিল্য করতে নেই। তুমি যদি সুটাম দেহের অধিকারী হতে চাও, তুমি যদি ভালো যে কোনই খেলোয়াড় হতে চাও, নিশ্চয়ই তোমাকে নিয়মিত অনুশীলন করতেই হবে। তুমি যদি অপাপবিদ্ধ ও অপরাধমুক্ত মানুষ থাকতে চাও, তোমাকে অবশ্যই পূণ্যের অনুশীলনের মাধ্যমেই পূণ্যলোভেই পূণ্যলাভ করতে হবে। তুমি যখন শিক্ষিত মানুষ হয়ে চুরি বা অপরাধযুক্ত কাজ করার জন্য অন্তরে উগ্র বাসনা উদিত করে চুরি-দুর্নীতি-ঘুষ এসব নিষ্ঠুর কর্মকান্ডে পারদর্শী
হওয়ার অনুশীলনে থাকো সেটাও তোমার জীবনের একটি সাধনালব্ধ কাজ। আবার এই আমরাই যখন আমাদের মৃত্যুর বৃদ্ধ বয়সে মৃত্যু ভয়ে ভ্যাবাচেকা হয়ে পূণ্যের অনুশীলনে মগ্ন হব পূণ্যলোভে, তখন যে বেলাশেষে পূণ্যলাভের বেলাই শেষ তা কি আমরা সকলে ভেবে দেখি? আমরা যদি বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে লোভাতুর চেতনা আমাদের
অন্তর থেকে তিরোহিত করে, জীবনের শুরু থেকে অন্তরে তীব্রগতি সঞ্চার করে পূণ্যলোভে পূণ্যের অনুশীলন করি, সেটাই পদ্ধতিগত মূল ও সহজ কাজ। বেলাশেষের যে কোন কাজই আমাদের পক্ষে নিয়ে শান্তির বার্তা নিজেদের অন্তরে পৌঁছে দেওয়া দূরহ হয়ে পড়ে। কারণ, মানুষের শেষ বেলাতে সব কিছুই কম মেলে। মনে রাখিও, আমাদের শেষ বেলাতে যা পুন্জিভুত হবে তোমার-আমার অতীতেরই রক্ষিত অর্জন। তুমি তোমার জীবনের প্রথম বেলাতেই একটু নিরক্ষণের হিসেবে চলতে থাকো পূণ্যাত্নার স্বরূপ নিয়ে, শেষবেলাতে জীবন পৌঁছে গেলেও পূণ্য লাভের জন্য তোমাকে পূণ্যপাগল হতে হবে না। জীবনে পূণ্যপাগল হওয়া নয়, অন্তর পবিত্র রাখার পাগল হও। তুমি কখনোই তোমার নিজের অন্তরে পবিত্র মানুষ না হলে পূণ্যপাগল হতে পারবে না পূণ্যলাভে। তোমরাই বল, সারাকাল মানুষের ক্ষতিসাধন করে, চুরি-দুর্নীতি-ঘুষ এসব পাপাচার আর নিষ্ঠুরতার মাঝে নিজেকে নিমজ্জিত রেখে তোমাদের কি কোন পূণ্যলাভের পূণ্যাত্না থাকে? তোমরা যখনই মানুষের ক্ষতিসাধনে জীবন চালিত করে চলতে শুরু করবে, তোমার পূণ্যের সমস্ত কাজই নর্দমায় চলে যাবে। কারণ, পাপ আর পূণ্য এক
সাথে পূণ্যাত্না নিয়ে বাস করতে পারে না। মানুষের জীবনে যে কোন স্বল্পতাই মানুষকে অস্থির মানুষে পরিণত করে। সারাকাল পাপ আর অপরাধ করে বেলাশেষে কিই বা পূণ্যের কাজ করা যায়? পূণ্যের অনুশীলনেও মনোযোগের প্রয়োজন হয়। শেষবেলাতে অশক্ত শরীর ও মনকে পূণ্যের কাজে মনোযোগী করা যায় না। পূণ্যলাভের কাজ শুধুই বেলাশেষে নয়। আমরা যদি পূণ্যের জন্য পূণ্যলোভী মানুষ হই, জীবনের প্রথম থেকে যেন পূণ্যেলোভের মানসিকতা হয়। আমরা যদি জীবনে পূণ্যার্জন করে পরকালে জান্নাতে যেতে চাই, পাপ-অপরাধ, দুর্নীতি, মানুষ হত্যা এসব জঘন্যতম ও নিষ্ঠুর কর্মকান্ড করা থেকে যেন আমরা সকলেই বিরত থাকি। চল আমরা সকলেই জীবনের শুরুতেই সত্য সুন্দরের সন্ধানে থেকে সত্যাশ্রয়ী মানুষ হই। আমরা যদি পরকালের পূণ্যালয়ে যাওয়ার জন্য পূণ্যালোভী মানুষ হতে চাই, তবে যেন পূণ্যের অনুশীলনে অনেক বেশিই মনোযোগী হই। কেউ যখন অন্যায় অপরাধ লোভাতুর মানসিকতার মধ্য দিয়ে ভোগ বিলাস করে মজা পেতে থাকে, তাদের অন্তরে উপভোগের কামনা অনেক বেশিই তীব্র হতে থাকে। এই মানুষগুলো বাহিরে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে চলনে-বলনে, কাপড়ে-ছোপড়ে, লেবাসে মনোরম হলেও তারা তাদের অন্তরের লেবাসে অসুন্দর, অপবিত্র, নিষ্ঠুর। তারা তাদের অন্তরের পবিত্রতাকে নষ্ট করে এতটাই উগ্র থাকেন যে, রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনে যা চুরি-দুর্নীতি-ঘুষ-
হত্যাযজ্ঞ বা অন্য যে কোন অপরাধ কর্মেও বিবেকের সৌন্দর্য্যে অন্তরে ফুঁটে উঠে না। এই মানুষগুলোই শেষ বয়সে সৃষ্টিকর্তার পূণ্যলাভে ঐ যে যৌবন কালে দুর্নীতি-সুদ-ঘুষ হত্যাযজ্ঞ মানুষ হওয়ার জন্য যেমন ব্যস্ত ছিলেন, তেমনই ব্যস্ত হয়ে যান অতীতের সমস্ত অপরাধ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। আমরা অন্তরে পবিত্র হয়ে সত্য সুন্দরের সন্ধানে থেকে শুধুই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, আমরা যেন আমাদের মনন ও বিবেকের শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ হই। শেষ কথা-পূণ্যাত্নার পূণ্যশালায় গিয়ে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত কথানুসারে আমরা যেন পূণ্যলাভ করি।
“Character cannot be inherited. It cannot be bought. It is impossible to weigh, and it cannot be physically touched. It can be built, but only slowly. And without it, one cannot lead others.”—Stephen Covey
লেখক: কলামিস্ট, গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষক।