৭ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত
মানব কথা: কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এর ফলে নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজমান রয়েছে। এছাড়া সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর রহমান।
তিনি সোমবার দুপুরে বলেন, “উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি আট পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত আছে।
“আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি ভারি এবং মাঝারি ভারি থেকে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।”
এমন পূর্বাভাসের ভিত্তিতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা বলেন তিনি।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি সোমবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
নদীগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার নালজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোণা জেলার বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে, ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোণা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং হবিগঞ্জ জেলার কালনি-কুশিয়ারা নদী আজমেরিগঞ্জ পয়েন্টে, সুতাং নদী সুতাং-রেলওয়ে ব্রীজ পরেন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীসমূহের মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, অপদিকে ভুগাই-কংস নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘন্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে (আগরতলা-ত্রিপুরা) এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই অঞ্চলে ৫ মে পর্যন্ত মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি এবং ৬ ও ৭ মে মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার হলে মাঝারি-ভারি, আর ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারি বৃষ্টি বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্বিতীয় দিন কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি সমতল প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
নেত্রকোণা জেলার ভূগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীসমূহের পানি সমতল আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে, এই অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। জুড়ি নদীর পানি সমতল আগামী ৭২ ঘন্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী এক দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন হ্রাস পেতে পারে, এবং প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হবিগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।














