হাওরে তলাচ্ছে ধান, শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষক
মানব কথা: টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ক্ষতি বাড়ছে।
বৃষ্টি কিছুটা কমলেও হাওর এলাকায় নতুন করে জমি তলিয়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও প্রায় দুই হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে নয় হাজার ৪৫ হেক্টর।
রোববার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওর এলাকা। এর মধ্যে শুধু ইটনা উপজেলাতেই প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।
সাদিকুর রহমান বলেন, ‘পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় জেলার প্রায় ৩২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘‘ইটনা পয়েন্টে ধনু ও বৌলাই নদীর পানি, চামড়াঘাটে মগরা নদীর পানি এবং অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি বেড়েছে। তবে এখনো নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।’’
টানা বৃষ্টির কারণে মেঘনা, কালনী, কুশিয়ারা, ধনু, বৌলাই, মগরা, দাইরা, ঘোড়াউত্রা, ধলেশ্বরী, করাতিয়া কলকলিয়া, বৈঠাখালী, কলমারবাকের পানি বাড়ছে। এসব নদ-নদী উপচে হাওরে ঢুকে একের পর এক ফসলি জমি তলিয়ে দিচ্ছে।
দিন দশেক আগেও বোরো ধান কাটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন হাওর এলাকার কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সেই চিত্র বদলে গেছে। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দের বদলে এখন তারা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
টানা বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বাড়তি মজুরি দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ক্ষেতেই পাকা ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মিঠামইন উপজেলার গোপদীঘি গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া বলেন, “ধান প্রায় সবই পানির তলে। যেটুকু আছে, সেটাও কাটতে পারছি না। পানির কারণে মেশিনেও কাটা যাচ্ছে না, আবার শ্রমিকও মিলছে না। দিনে দুই হাজার টাকা দিলেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ধান জমিতেই নষ্ট হচ্ছে।”
ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি গ্রামের জসিম উদ্দিন বলেন, “যেটুকু ধান কাটা হয়েছে, রোদ না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না। খলায় রাখা ধান ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
অষ্টগ্রাম উপজেলার ভাতশালা গ্রামের কৃষক ইকবাল মিয়া বলেন, “ধান চাষ করতে ধার-কর্জ করতে হয়েছে। এখন সব পানির নিচে।”
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে জেলায় এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে এক লাখ চার হাজার ৫৮১ হেক্টর জমিতে। ইতিমধ্যে জেলায় প্রায় ৫৯ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
















