১৮ বছর পর ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ
মানব কথা দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রায় ১৮ বছরের অপেক্ষার পর ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা-২০০৫ এর প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে চাকরিতে যোগ দেবেন। সরকার জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। পাশাপাশি চাকরি সংশ্লিষ্ট পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণেও অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এই সময়সীমা আরও বাড়াতে পারবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে চাকরি স্থায়ী করা হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠতা রক্ষার্থে তাদের নিয়োগ সংশ্লিষ্ট ব্যাচের প্রথম প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে কার্যকর হবে। তবে এ কারণে কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে না। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগে যোগদান করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে পুনরায় ভাইভা গ্রহণ করে। এতে প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক প্রার্থী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন। পরে তারা আদালতে রিট করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল বিভাগ নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এবার দ্বিতীয় ধাপে আরও ৯৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলো।









