নবম পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বেশি বাড়ার ইঙ্গিত
মানব কথা:নতুন জাতীয় পে স্কেল নিয়ে গঠিত কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে। তবে বৈঠকে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি তুলনামূলক কম হতে পারে। সূত্র বলছে, মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর—এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই নতুন কাঠামোতে বৈষম্য কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশও আলোচনায় রয়েছে। পেনশনের হার শতভাগের বেশি বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে বলে জানা গেছে। পে কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতো। তবে বর্তমানে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয়ের ফলে অতিরিক্ত ব্যয় কিছুটা কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব বিবেচনায় নিয়েই আগামী বাজেটে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, নবম পে স্কেল শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয়, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন এবং বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বিষয়েও আলাদা নির্দেশনা থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, চূড়ান্ত সুপারিশ পে কমিশন থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে এবং এরপরই ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে।অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন নাও হতে পারে—সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে।










