গ্রাহকদের আমানত রক্ষা ও এস আলমের শাস্তির দাবিতে সোনাইমুড়ীতে তীব্র ক্ষোভ, মানববন্ধন
মোঃ জাহিদুল ইসলাম সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী):
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-কে পরিকল্পিত সংকটে ফেলার প্রতিবাদ এবং ব্যাংক থেকে লুট হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা ফেরতের দাবিতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে) বেলা ১১টায় সোনাইমুড়ী ইসলামী ব্যাংক কার্যালয়ের সম্মুখে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন সমাজ’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।
ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সেক্রেটারি সামছুল আরেফিন জাফরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসাইন ভূঁইয়া, শিক্ষাবিদ হাসানুজ্জামান, শিক্ষক মাওলানা মাইন উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা আলা উদ্দিন, ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ বেলাল, আমীর হোসেন ও হাসিনা আক্তার মুন্নি।
বক্তাদের মূল বক্তব্য ও দাবি:
পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ: বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ চক্র সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় এই ব্যাংকটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘নগ্ন হস্তক্ষেপের’ কারণেই ব্যাংকটি আজ গভীর সংকটে।
এস আলমের বিচার: বক্তারা দাবি করেন, এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করেছে। এই লুণ্ঠিত অর্থ দ্রুত ব্যাংকের কোষাগারে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এস আলম গ্রুপকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
গ্রাহকের আমানতের নিরাপত্তা: রাজনৈতিক বা কোনো বিশেষ মহলের স্বার্থে নয়, সাধারণ গ্রাহকদের কষ্টার্জিত আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকটিকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সচেতন সমাজের একটি প্রতিনিধি দল সোনাইমুড়ী শাখার ব্যবস্থাপক মো. রাশেদুজ্জামানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা ব্যাংকের দ্রুত পুনর্গঠন, গ্রাহকদের হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।















