নতুন পে-স্কেলে বদলাচ্ছে ইনক্রিমেন্ট, কোন গ্রেডে কত বাড়বে বেতন?
স্টাফ রিপোর্টার শহিদুল ইসলাম>>সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নবম জাতীয় পে-স্কেল। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এর চূড়ান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশ করবে সরকার। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বেতন অনুপাত এবং বিভিন্ন ভাতা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্ট মাসেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনে পরিবর্তনের প্রস্তাব
জাতীয় বেতন কমিশন প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। তবে সচিব কমিটি সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন মূল বেতনও কিছুটা কমানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
বেতন কমিশন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ করলেও সচিব কমিটি সেটি ১:৭.৫ করার পক্ষে মত দিয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪।
গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্টে নতুন কাঠামো
বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীরা বছরে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পান। তবে নতুন পে-স্কেলের খসড়া অনুযায়ী গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে ইনক্রিমেন্ট কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ইনক্রিমেন্ট হার:
- ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: ৫ শতাংশ (বর্তমান হার বহাল)
- পঞ্চম গ্রেড: ৪ শতাংশ
- তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেড: ৩.৫ শতাংশ
- দ্বিতীয় গ্রেড: ২.৭৫ শতাংশ
- প্রথম গ্রেড: আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে
ভাতা কাঠামোতেও আসছে পরিবর্তন
নতুন পে-স্কেলে বিভিন্ন ভাতার ক্ষেত্রেও সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে। আলোচনা অনুযায়ী, চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার টাকা এবং শিক্ষা ভাতা ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে।
তবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দিতে যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, ধোলাই ভাতা এবং ঝুঁকিভাতার মতো সুবিধাগুলো বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কবে থেকে কার্যকর হবে?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
যদিও এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং সরকারি গেজেট প্রকাশের পরই নতুন জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো কার্যকর হবে।









