বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ: তামাকজনিত রোগে বছরে প্রাণ হারায় প্রায় ২ লাখ মানুষ

সময়: 9:04 am - May 31, 2026 |

মানব কথা:আজ ৩১ মে, বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘আনমাস্কিং দ্য অ্যাপিল: কাউন্টারিং নিকোটিন অ্যান্ড টোব্যাকো অ্যাডিকশন’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার এখনো জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে সরকারের প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
তামাক চাষে পরিবেশের ক্ষতি:
বিশ্বব্যাপী ১২৫টিরও বেশি দেশে প্রায় ৪০ লাখ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। আবাদযোগ্য জমির সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তামাক চাষে ব্যবহৃত জমির পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১৩তম। বিশ্বের মোট তামাক উৎপাদনের প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ আসে বাংলাদেশ থেকে। গবেষণা বলছে, তামাক চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে বন উজাড়ের হারও উদ্বেগজনক। টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩১ শতাংশ বন নিধনের সঙ্গে তামাক চাষ জড়িত। কক্সবাজার ও বান্দরবানের কয়েকটি উপজেলায় শুধু তামাকপাতা শুকানোর কাজে এক বছরেই প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি কাঠ ব্যবহার হয়েছে।
তরুণদের লক্ষ্য করে কৌশল:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী অন্তত ৩ কোটি ৭০ লাখ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত তামাক ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের আকৃষ্ট করতে তামাক কোম্পানিগুলো সুগন্ধিযুক্ত পণ্য বাজারজাতকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পণ্য সহজলভ্য করার মতো কৌশল ব্যবহার করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) গবেষণায় দেখা গেছে, ২১ বছর বয়সের আগেই যারা তামাকে আসক্ত হয়, তাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নিকোটিন নির্ভরতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান:
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান ‘প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ তরুণ-তরুণী, যারা তামাক কোম্পানিগুলোর প্রধান লক্ষ্যবস্তু। তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ নতুন প্রজন্মের সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ, কর বৃদ্ধি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে তামাকজনিত মৃত্যু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর