রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু, আদালতে উঠে এলো ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
মানব কথা:রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার শুনানিতে স্বজন, প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্যে ঘটনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রামিসার বাবা-মা, বড় বোন, স্বজন ও প্রতিবেশীসহ একাধিক সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। আদালতে সাক্ষীরা জানান, ঘটনার দিন শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে সংশ্লিষ্ট বাসায় গিয়ে তারা পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। রামিসার চাচি আদালতে বলেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখতে পান। তিনি জানান, ঘটনাটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক ছিল। চাচা মিজানুর রহমান লিটন আদালতে বলেন, খবর পেয়ে বাসায় ফিরে তিনি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেন। আদালতে তিনি উপস্থিত আসামিদের শনাক্ত করেন বলেও জানান। একই ভবনের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, ঘটনার দিন শিশুটির মায়ের উদ্বেগ ও ডাকাডাকির পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করেন। প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজনও আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, পরিবারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পরবর্তীতে তদন্তে সহায়তা করেন। গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন প্রতিবেশী আবু সামা। তিনি আদালতে জানান, ঘটনার সময় সন্দেহজনকভাবে একজন ব্যক্তিকে ভবন থেকে বের হতে দেখেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দেখে তিনি ওই ব্যক্তিকে আসামি সোহেল রানা বলে শনাক্ত করেন বলে দাবি করেন। আরেক সাক্ষী মনিরুজ্জামান শাহীন আদালতকে জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামত দেখতে পান। এদিন মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য রুমা আক্তারও সাক্ষ্য দেন। তবে তার সাক্ষ্যের বাকি অংশ আদালতের পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল রহমান দুলু সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষীদের বক্তব্যে মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ নির্ধারিত সময়ে অব্যাহত থাকবে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে আরও সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।










