বাংলাদেশ-তুরস্ক বৈঠক: বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

সময়: 5:22 pm - June 5, 2026 |

মানব কথা: কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা যাচাইয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কৌশলগত পর্যায়ে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং পারস্পরিক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উভয় দেশের দৃঢ় অঙ্গীকার এই সফরের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এফটিএ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব:

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাকান ফিদানের এই সফর দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলল তুরস্ক:

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রার মতৈক্য রয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রশংসা:

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হাকান ফিদান বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এক মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে।রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে তুরস্ক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।

গাজা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:

সংবাদ সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান।এছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কূটনীতি ও সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের ভূমিকাকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সম্পর্কের নতুন মাইলফলক:

উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত পোষণ করেন যে, এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর