রামিসা হত্যা মামলার রায়: প্রধান আসামি দম্পতির ফাঁসির আদেশ

সময়: 7:46 am - June 7, 2026 |

মানব কথা :রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন) সকাল ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন।

যেভাবে ঘটেছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ড:

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর ওই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন। তিনি আদালতে জানান, ধর্ষণের সময় শিশুটি চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরেন। পরে তাকে মৃত ভেবে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে দেহ খণ্ডিত করার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে তিনি গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।

মাত্র পাঁচ দিনে চার্জশিট, দ্রুত বিচার:

ঘটনার তদন্ত শেষে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ঈদের ছুটি শেষে ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। বিচারিক আদালতের অবকাশকালীন ছুটি চললেও মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর