প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষা গড়তে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

সময়: 8:09 am - June 7, 2026 |

মানব কথা:দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। রোববার (৭ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে বাস্তবমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় এসেছে।তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দুই হাজারের বেশি কলেজে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এসব শিক্ষার্থীকে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা বিবেচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্ব, উপস্থাপনা দক্ষতা ও আর্থিক সাক্ষরতার মতো বিষয়গুলো শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। পাশাপাশি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো প্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং ও ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেও ব্যবহারিক দক্ষতার অভাবে অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা সমাধানে বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। তিনি আরও জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ‘সিড ফান্ডিং’ বা ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা শুধু পাঠদানকারী নন, তারা সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস। তাই প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা “কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব” প্রতিপাদ্যের আলোকে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর