এলডিসি উত্তরণের পর সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি ঝুঁকিতে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সময়: 2:06 pm - June 8, 2026 |

মানব কথা: স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের পর উন্নত দেশগুলোর শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা হারানোর কারণে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতায় রপ্তানি খাতের সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার বাজার ও পণ্য বহুমুখীকরণের কৌশল বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) চূড়ান্ত হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীন ও আরসিইপি সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা সেপা স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি, ডলার সংকট এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ সময়ে ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানির বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ২০২টি দেশ ও অঞ্চলে পণ্য রপ্তানি করলেও মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ নির্ভরতা কমাতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার, হালকা প্রকৌশল, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক খাতকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে আংশিক রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা চালু করা হয়েছে। এছাড়া বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের মাধ্যমে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোকে সহায়তা এবং ‘রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক রপ্তানিকারকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদে প্রাক-জাহাজীকরণ ঋণ তহবিল এবং রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ সুবিধা অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান তিনি।অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি ১০০টি ও ভুটানের ৩৪টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সঙ্গেও অনুরূপ বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখনো সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর