বিদেশি বিনিয়োগ আনলে মিলবে ১.৫% কমিশন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

সময়: 1:02 pm - June 10, 2026 |

মানব কথা:দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিনিয়োগ নিয়ে এলে সেই বিনিয়োগের মোট অর্থের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশন (ইনসেনটিভ) দেওয়া হবে। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু বিদেশি বিনিয়োগ নয়, দেশীয় বিনিয়োগও উৎসাহিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ (ডিরেগুলেশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—বিদেশ থেকে কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক বিনিয়োগ আনতে পারলে তাকে মোট বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশন দেওয়া হবে। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আরও উৎসাহিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার তহবিল:

সংসদে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। এই তহবিল থেকে যোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে।তিনি বলেন, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কারণে সমস্যার মুখে পড়েছে, কিন্তু তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের পুনরুদ্ধারে এ ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।

সুদের হার কমানোর বিষয়েও ভাবছে সরকার:

ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির স্বার্থে সুদের হার কমানো প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অর্থনীতির সুফল পেতে সময় লাগবে

সংরক্ষিত নারী আসনের এক সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ফল একদিনে পাওয়া যায় না। অতীতের ভুল নীতির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে এসেছে, তেমনি বর্তমান সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক পদক্ষেপের সুফলও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে।

মুনাফা দেশে নেওয়ার বাধা দূর হবে:

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি জটিলতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও আস্থাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা হবে।সরকারের আশা, নতুন এই প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর