সাতক্ষীরা আশাশুনির উত্তর খাজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়ম!

সময়: 2:00 pm - July 25, 2026 |

স্টাফ রিপোর্টার: ১৩০ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষে প্রাথমিক সকল ক্যাটাগরির সদস্য মনোনিত না করে প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার উক্ত ওয়ার্ডের মেম্বারের সাথে যোগসাজশে ১ম মিটিংয়ে সভাপতি নির্বাচিত করেন ওয়ার্ড মেম্বর ইয়াকুব আলীকে। উক্ত মিটিংয়ে মেম্বার তার ক্ষমতা খাটিয়ে সম্পূর্ণ একতরফাভাবে নিজেকে সভাপতি ঘোষনা করেন এবং তার মনোনীত জনাব আসলাম কে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে ঘোষণা করেন। মেম্বর নিজে ৯ জন সদস্য মনোনীত করে তাদের সমর্থন নিয়ে সভাপতি মনোনীত হন কিন্তু নিয়ম হলো সকল ক্যাটাগরির প্রাথমিক সদস্য মনোনীত হওয়ার পরে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন হবে। এছাড়া তার মনোনীত একাধিক ক্যাটাগরির ২জন সদস্য যথাক্রমে মাধ্যমিক শিক্ষক ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য [পুরুষ]পরিবর্তন হয় এবং ১জন সদস্যের পদই (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক/ সরকারি কর্মচারী স্কুল ক্যাচমেন্ট এলাকায় না থাকায়) ঐ বিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। তাহলে কমিটি গঠন নিয়মমাফিক হলো কিনা তা এলাকাবাসীর প্রশ্ন। পরবর্তীতে সভাপতি প্রার্থী ও জমিদাতা সদস্য জনাব মো: ফিরোজ আহমেদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উক্ত অভিযোগটি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা অফিসার আশাশুনি, সাতক্ষীরাকে অনুরোধ করেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব স্বপন কুমার বর্মন ০৮/০৭/২০২৬ তারিখে ৮০২ নম্বর স্মারকে জনাব মো: মুস্তাফিজুর রহমান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ১৪/০৭/২৬ তারিখে তদন্ত করেন।

ওয়ার্ড মেম্বার কর্তৃক অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত জনাব আসলাম এসএসসি পাশ সার্টিফিকেট দিতে পারেন নাই। পরবর্তী মেম্বার ইয়াকুব একাকী আজহারুল নামক একজনের নাম পাঠানোর কথা বলেন। এলাকাবাসী প্রশ্ন হলো বিদ্যোৎসাহী সদস্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক মনোনীত করা হয়। সেখানে মেম্বার ইয়াকুব নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন কিভাবে এছাড়াও এসএমসি গঠনের লক্ষে সর্বশ্রেণির জনসাধারনের উপস্থিতিতে হাউজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে দুইজন পুরুষ সদস্যের নাম প্রস্তাব হয়েছিল। ১নং প্রার্থী এস এস সি পাসের প্রমাণক দেখাতে পারিনি, তাহলে ২নং প্রার্থীর নাম জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু এলাকার মেম্বরের চাপে প্রধান শিক্ষক ২নং প্রার্থীর নাম জমা না দিয়ে গোপনে তৃতীয় একজন প্রার্থীর নাম নির্বাহী অফিসারের নাম জমা দিয়েছেন। জটিল পরিস্থিতি হওয়ার কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুনরায় ২০/০৭/২৬ তারিখে সকলের নিয়ে বসে আবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং বিদ্যোৎসাহী সকলের নাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পাঠাতে হবে মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা সকলের উপস্থিতিতে ঘোষণা করেন। কিন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপোর্ট প্রদানের পূর্বেই জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে একজনকে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে মনোনিত করা হয়েছে কীনা এলাকাবাসী সন্দেহ প্রকাশ করছে। তদন্ত রিপোর্ট আমলে না নিয়ে পূর্বে মেম্বরের পাঠানো একমাত্র ব্যক্তিকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনীত করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

এলাকাবাসীর দাবি বিদ্যোৎসাহী সদস্য বাতিল পূর্বক আগ্রহী সকল বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির নাম নতুনভাবে ইউএনও অফিসে প্রেরণ করে নতুন কাউকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনীত করে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত করতে হবে। তা না হলে এলাকাবাসী আদালতে শরণাপন্ন হবে। এবিষয়ে শিক্ষা অফিসার জনাব স্বপন কুমার বর্মন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান আমরা তদন্ত করেছি এবং রিপোর্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পেশ করেছি, রিপোর্টে এলাকাবাসীর চাওয়া এবং কমিটি গঠনে ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে নতুন করে আগ্রহীদের তালিকা জমা দিতে প্রধান শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর অবহিত করা হয়েছে। বিদ্যোৎসাহী সদস্য কিভাবে মনোনীত করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন এটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার করেছেন তিনি বলতে পারবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু, আশাশুনি, সাতক্ষীরা। মোবাইল নম্বর : 01779509035 তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর