চাঁদপুর গণপূর্তের প্রকৌশলী আলী নূরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি
শহিদুল ইসলাম:চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগে কর্মরত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আলী নূরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় নিজ জেলা চাঁদপুরে কর্মরত থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে গণপূর্ত বিভাগে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেন আলী নূর।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন আলী নূর। এরপর বিভিন্ন সময়ে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর ও চাঁদপুরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান জেলাগুলোতে পদায়নের সুযোগ নিয়ে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে অনিয়ম ও উৎকোচ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। সূত্রগুলোর দাবি, চাঁদপুরে মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, টিটিসিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।। আরও অভিযোগ রয়েছে, সিভিল শাখার কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ই/এম (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল) উপবিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে মতলব উত্তর উপজেলার একটি সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের আওতায় স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের কাজেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে নতুন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পুনর্মূল্যায়ন করলে আগের নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চাকরিজীবনে অর্জিত বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে চাঁদপুর ও ঢাকার মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমিসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আলী নূর। তবে এসব সম্পদের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।এছাড়া উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা নিষ্পত্তির ঘটনাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার এসব অনিয়ম এর বিষয় সচেতন মহল তদন্ত পূর্বক শাস্তির দাবি জানান , এ বিষয়ে উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আলী নূরের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।















