চালের বাজারে দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল, সংকটের আশঙ্কা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
মানব কথা:রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা চালের বাজার পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশে চালের বাজারে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নেই। দাম ও সরবরাহ—উভয়ই স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারের হাতে পর্যাপ্ত চাল ও গমের মজুদ থাকায় বাজারে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতাও রয়েছে বলে জানান তিনি।রাজধানীর বাদামতলী পাইকারি চালের বাজার ও নয়াবাজারের খুচরা বাজার পরিদর্শনের পর বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এ সময় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটি জাতীয় দৈনিকে চালের দাম বৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করতে তিনি ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন করেন। সেখানে বিভিন্ন পাইকারি আড়ত ও খুচরা দোকানে ঘুরে তারা দেখেছেন, চালের দামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি।তিনি জানান, ঈদের পর কয়েক ধরনের চালের দাম কেজিতে এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে এটি বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত নয়। কিছু মিল মালিক বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও বাজারে তা কার্যকর হয়নি এবং পরে সেই দামও কমে এসেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মানের চালের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত দামের পার্থক্য থাকে। নতুন ও পুরোনো চালের দামেও কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। নতুন ধানের ফলন ভালো হওয়ায় নতুন চালের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। এ ধরনের সামান্য ওঠানামা বাজারের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তিনি আরও জানান, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রতিদিন বাজার পরিস্থিতি ও মূল্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।সরকারি খাদ্য মজুদের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত চাল ও গমের মজুদ রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে ধরনের কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়নি।বাজেট-পরবর্তী মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খাদ্যপণ্যের বাজার আগের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়ানোর কারণও আগেই স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, দেশে চালের সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারের হাতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে, যা নির্ধারিত আপৎকালীন মজুদের চেয়েও বেশি। চলমান ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই মজুদ আরও বাড়ছে।তিনি বলেন, বাজার পরিদর্শনে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে চালের সরবরাহে কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই। তাই চালের বাজার নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।









