দলিল রেজিস্ট্রিতে জমির শ্রেণি নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা, খাজনার রশিদ নয়—খতিয়ানই হবে ভিত্তি
মানব কথা:দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় জমির শ্রেণি নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নিবন্ধন অধিদপ্তর। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) রশিদে উল্লেখিত ‘আবাসিক’, ‘বাণিজ্যিক’ বা ‘শিল্প’ শ্রেণি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না। বরং সর্বশেষ প্রকাশিত খতিয়ানে উল্লেখিত জমির প্রকৃতিই মূল্য নির্ধারণ ও দলিল নিবন্ধনের ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর মহাপরিদর্শক (নিবন্ধন) মো. নূর ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের জেলা রেজিস্ট্রারের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে নিবন্ধন অধিদপ্তর।পরিপত্রে বলা হয়েছে, দলিল নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারকে জমির সর্বশেষ চূড়ান্ত খতিয়ান বা তার সহিমুহুরী নকল যাচাই করে জমির প্রকৃতি ও বাজারমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দলিলে কোনো সরকারি সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত হয়নি কি না, তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।নিবন্ধন অধিদপ্তর জানিয়েছে, The Registration (Amendment) Act, 2004-এর ৫২এ ধারা অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ চূড়ান্ত খতিয়ান বা তার সহিমুহুরী নকল যাচাই ও সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।
এতে আরও বলা হয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি নির্ধারণ করা হয় কেবল খাজনা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে। ফলে খাজনার রশিদে উল্লেখিত ‘আবাসিক’, ‘বাণিজ্যিক’ বা ‘শিল্প’ শ্রেণি দলিল নিবন্ধনের সময় জমির প্রকৃতি নির্ধারণে প্রযোজ্য হবে না। নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণে সর্বশেষ প্রকাশিত খতিয়ানে উল্লিখিত জমির প্রকৃতিই একমাত্র বিবেচ্য হবে। খাজনার রশিদের ভিত্তিতে জমির মূল্য নির্ধারণ বা দলিল নিবন্ধনের সুযোগ নেই। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব জেলা রেজিস্ট্রারকে নিজ নিজ জেলার সব সাব-রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ নির্দেশনার ফলে জমির শ্রেণি নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর হবে এবং সারা দেশে দলিল নিবন্ধনে একই নীতি অনুসরণ নিশ্চিত হবে।










