জুলাই এলেই ফিরে আসে আবু সাঈদ: বন্ধুরা আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন তার স্মৃতি
মানব কথা:জুলাই মাস এলেই যেন আবারও ফিরে আসে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে প্রতিটি জুলাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয় আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বন্ধু, সহপাঠী, সহযোদ্ধা ও শিক্ষকদের স্মৃতিতে তিনি আজও সাহস, প্রতিবাদ ও আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া ও দেবদারু সড়ক, ইংরেজি বিভাগের করিডোর, মিডিয়া চত্বর, স্বাধীনতা স্মারক এবং আন্দোলনের নানা স্মৃতিবিজড়িত স্থান আজও যেন আবু সাঈদের উপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে শোকের তীব্রতা কিছুটা কমলেও তার আত্মত্যাগের স্মৃতি আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করেন তার সহযোদ্ধারা। বন্ধুদের ভাষ্য, আবু সাঈদ ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, মানবিক ও সাহসী একজন মানুষ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি। পাশাপাশি বিপদে-আপদে সবার পাশে দাঁড়ানো ছিল তার স্বভাব।বন্ধু শাকিল স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আবু সাঈদ সব সময় মানুষের পাশে থাকতেন। কারও রক্তের প্রয়োজন হলে নিজে দিতেন, না হলে ব্যবস্থা করতেন। পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর সেই দৃশ্য আজও চোখের সামনে ভাসে।”
সহযোদ্ধা মো. শামসুর রহমান সুমন জানান, আন্দোলনের শুরু থেকেই আবু সাঈদ সামনের সারিতে ছিলেন। সিনিয়র হিসেবে তার দৃঢ় অবস্থান জুনিয়র শিক্ষার্থীদের সাহস জুগিয়েছিল।তিনি বলেন, “৩ জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হলে আবু সাঈদ নিজেই সামনে এসে দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন। আবার ১২ জুলাই হামলার পর তিনি বলেছিলেন—‘কারা সামনের সারিতে থেকে মরতে প্রস্তুত আছো? সামনে আসো।’ তার সাহসী আহ্বান আজও আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়।”বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহ্সীনা আহ্সান বলেন, টেলিভিশনে পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানো নিজের ছাত্রকে দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। পরে তার শহীদ হওয়ার খবর জানতে পারেন।
তিনি বলেন, “আবু সাঈদ অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। মেধাভিত্তিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।”বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।তিনি জানান, তার স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবু সাঈদ আবাসিক হল, স্মৃতিস্তম্ভ, জাদুঘর, স্মারক তোরণ এবং ‘আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এদিকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আবু সাঈদ কেবল একজন শহীদ নন, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সাহস এবং আত্মত্যাগের এক চিরন্তন প্রতীক।তাদের ভাষায়, “আবু সাঈদ শুধু আমাদের স্মৃতিতে নন, আমাদের চেতনায়ও চিরজাগরুক হয়ে আছেন।”









