ফ্রান্স ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা মরক্কোর, খেলছেন না ইসমায়েল সাইবারি
স্পোর্টস ডেস্ক:২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মরক্কো সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা খেল। দলের অন্যতম সেরা পারফর্মার ইসমায়েল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারছেন না।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য সেমিফাইনালকে সামনে রেখে মরক্কোর প্রধান কোচ মোহামেদ উয়াহবি নিশ্চিত করেছেন, পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় সাইবারিকে মাঠে নামানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বকাপে সাইবারির পথ এখানেই শেষ হয়ে যায়নি।
শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান সাইবারি। ইনজুরির কারণে মাত্র ২২ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এরপর থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় থাকলেও সেমিফাইনালের আগে ফিটনেস ফিরে পাননি এই মিডফিল্ডার।চলতি বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন সাইবারি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। শেষ ৩২-এর নকআউটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক শেষ শটটিও সফলভাবে নিয়েছিলেন এই তারকা, যা মরক্কোকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উয়াহবি বলেন, “সাইবারি এখনো প্রস্তুত নয়। তবে এর মানে এই নয় যে তার বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে।”ম্যাচের কৌশল নিয়ে মরক্কোর কোচ জানান, প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার মতো কোনো গোপন পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, “আমাদের খেলার ধরন সবার কাছেই পরিষ্কার। বলের দখল ধরে রেখে ধৈর্য নিয়ে সুযোগ তৈরি করতে চাই। উইং কিংবা মাঝমাঠ—যেখানেই সুযোগ মিলবে, সেখান থেকেই আক্রমণে উঠব।”চার বছর আগে ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল মরক্কো। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলে মনে করেন উয়াহবি।
তার ভাষায়, “প্রতিটি ম্যাচের আলাদা ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট থাকে। চার বছর আগের মরক্কো কিংবা ফ্রান্স—কোনোটিই এখন আর আগের মতো নেই। দুই দলই উন্নতি করেছে এবং নিজেদের আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।”বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠাকে বড় অর্জন হিসেবে দেখতে নারাজ মরক্কোর কোচ। তিনি বলেন, “টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগে কোনো মূল্যায়ন করতে চাই না। ফ্রান্স অবশ্যই ফেভারিট, কিন্তু জয়ের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমাদের কাছে আসল লক্ষ্য শুধু সেমিফাইনাল নয়, বিশ্বকাপ জেতা।”
সাইবারির অনুপস্থিতি মরক্কোর জন্য বড় ধাক্কা হলেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়েই শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।









