হুন্ডির ১০ কোটি টাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস
মানব কথা: গাইবান্ধার আলোচিত ব্যক্তি হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হুন্ডি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার (১২ জুলাই) গভীর রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।সিআইডি জানিয়েছে, অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ কোটি টাকার হুন্ডি লেনদেনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, রোববার দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিআইডির একটি দল পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী কালী মন্দির এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তাকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, মানি লন্ডারিং মামলার ভিত্তিতেই সিআইডি তাকে আটক করেছে। তবে এ ঘটনায় এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এদিকে, সিআইডির অভিযোগ অস্বীকার করেছে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের পরিবার। তাদের দাবি, তিনি কোনো ধরনের অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। পরে অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুন মাসে শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বিবেচনা করে রামমূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করে। বর্তমানে মানি লন্ডারিং ও হুন্ডি লেনদেনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।










