টিকিটের নামে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’-এর ৭ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা

সময়: 4:35 pm - July 14, 2026 |

মানব কথা: অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট-এর বিরুদ্ধে শত শত গ্রাহক ও ট্রাভেল এজেন্টের কাছ থেকে উড়োজাহাজের টিকিটের অগ্রিম অর্থ নিয়ে টিকিট সরবরাহ না করে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানি লন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি জানিয়েছে, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, চেয়ারম্যান এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস-এর স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার তদন্তও করবে সিআইডি।

অগ্রিম টাকা নিয়ে উধাও প্রতিষ্ঠান:

২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। পরে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ-ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ভ্রমণসেবা চালু করে। তদন্তে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় আকর্ষণীয় মূল্যছাড় ও বিশেষ অফারের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের শত শত ট্রাভেল এজেন্সি ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ না করেই গত বছরের ১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন কর্মকর্তারা। এরপর এমডি সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ও চেয়ারম্যান এম এ রশিদ শাহ সম্রাট আত্মগোপনে চলে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের মক্কা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

১৭ ট্রাভেল এজেন্সির মামলা:

ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাভেল এজেন্টদের অভিযোগ, প্রতারণার শিকার হয়ে অন্তত ১৭টি ট্রাভেল এজেন্সি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ফ্লাইট এক্সপার্টের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রতিষ্ঠানের মূলহোতারা দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

ব্যাংক হিসাব ঘুরিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ:

সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১৯ সালে এফইবিডি (FEBD) নামে যৌথ মূলধনি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি ফ্লাইট এক্সপার্টএফইবিডি—উভয় নামে ব্যবসা ও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করত। তদন্তে আরও জানা যায়, এফইবিডির বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরে ফ্লাইট এক্সপার্টের একাধিক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন এবং রূপান্তরের মাধ্যমে অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে সিআইডি প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়া এমডি দেশত্যাগের পরও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। সিআইডির দাবি, এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের পুরো নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর