৪১৫৯ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের আকুতি, দ্রুত সিদ্ধান্তের আহ্বান

সময়: 5:25 am - July 30, 2026 |

মানব কথা: ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করে আসা ৪১৫৯ টি বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে ৪১৫৯টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিষয়ে চিঠি জারি হয় এবং পরবর্তীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সচিবের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৪১৬৯টি বিদ্যালয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ৪১৫৯ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিভিন্ন বীরশ্রেষ্ঠের নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী হওয়া সত্ত্বেও গত প্রায় ১৩ বছর ধরে বিনা বেতনে প্রত্যন্ত গ্রামের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা দিয়ে আসছেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, তারা ২০১৭ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তারা টানা ৩১ দিন রাজপথে আন্দোলন করেন। সে সময় বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালামসহ অন্যান্য নেতারা সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষকদের দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে সংগঠনের দাবি।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সরকারি উপবৃত্তি, মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন শিক্ষাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, অধিকাংশ শিক্ষক পরিবার চালানোর জন্য টিউশনি, অটোরিকশা চালানোসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না কিংবা নিজেদের সন্তানদের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সামর্থ্য হারিয়েছেন। তাদের মতে, গ্রামে একটি পরিবার পরিচালনার জন্য মাসে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো বেতন পাচ্ছেন না।

তাদের দাবি, অনেক শিক্ষকের বয়স চাকরির সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষক মৃত্যুবরণও করেছেন। বর্তমানে বয়সজনিত কারণে অন্য কোথাও চাকরির সুযোগও তাদের জন্য প্রায় নেই।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাদ্দাম হোসেন রুহান মন্ডল বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার স্বার্থে এবং হাজারো শিক্ষক পরিবারের মানবিক সংকট বিবেচনায় সরকার যেন দ্রুত ৪১৫৯ টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।”

সাদ্দাম হোসেন রুহান মন্ডল
যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কেন্দ্রীয় কমিটি), ঢাকা

যোগাযোগ:০১৬১২-২৭৬৫০৪

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর